রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

পানির অভাবে বিপাকে পাট চাষিরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

পানির অভাবে বিপাকে পাট চাষিরা

গাইবান্ধা জেলায় এবার বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হবার কারণে গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল, পুকুর, ডোবা পানিশূন্য হয়ে গেছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট চাষিরা পানির অভাবে পাট জাগ দিয়ে পঁচাতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, জেলার সাত উপজেলায় এবার ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাট চাষ করা হয়েছে  ১৬ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার ১৮৫ হেক্টর বেশি। হেক্টর প্রতি ২ দশমিক ৭ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। এখন পর্যন্ত শতকরা ২৫ ভাগ জমির পাট কাটা হয়েছে। তাই প্রকৃত উৎপাদন কত হবে তা আরও পরে জানা যাবে। এদিকে জমি থেকে কেটে নেওয়া পাট গাছ পানিতে জাগ দিয়ে পঁচানোর কাজ করতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি কম হবার দরুণ খাল বিল ডোবা নালা পানিশূন্য হয়ে পড়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়ার শাখা নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দিবার জায়গা পাচ্ছেন না কৃষকরা। অনেক এলাকায় কৃষকরা স্যালো মেশিন দিয়ে পুকুর ও নিচু জায়গায় পানি দিচ্ছেন । যা পাট উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আবার জাগ দেয়া নিয়ে শঙ্কটে এই এলাকায় পাট উৎপাদন ব্যাহত হওয়ারও আশংকা করছেন পাট চাষীরা। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দেখা গেছে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ২৭২ হেক্টর জমিতে তোষাপাট চাষা হয়েছে। বেশির ভাগ পাট চাষ হয়েছে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে।

তবে  নদীতে এবং নিচু এলাকায় পানি না থাকায় পাট সঠিকভাবে পচাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কারণ বেশি পরিমাণ এবং পরিষ্কার পানি না থাকলে পাট পঁচানোর জাগগুলোতে সঠিকভাবে পাট পঁচানো সম্ভব হবে না। ফলে পাটের মান নষ্ট হয়ে যাবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সংকটের কথা শিকার করে বলেন, বৃষ্টি কম হবার কারণে এবার এরকম একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবার আধুনিক যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে পাট পঁচানোর নতুন প্রযুক্তিও কৃষকরা ঝামেলা মনে করে সেভাবে গ্রহণ করছেন না। তবুও আমরা কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।