শিরোনাম
রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা

লালপুরে অচল গরিবের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

নাটোর প্রতিনিধি

লালপুরে অচল গরিবের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস

কম ভাড়ায় অসুস্থ রোগী হাসপাতালে আনা-নেওয়ার জন্য লালপুরে জনপ্রিয়তা পায় গরিবের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিকল হয়ে পড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপ দেওয়া এ যানবাহনগুলো। এতে কম খরচে দ্রুত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। জানা যায়, ২৪ ঘণ্টাই ফোন করে ঠিকানা জানিয়ে দিলে বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির হতো রোগী পরিবহনের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স। এ বাহনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রসূতিসহ মুমূর্ষু রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সহজেই আনা-নেওয়া করা হতো। আর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা হাসপাতালের দূরত্ব অনুসারে পরিবহন খরচ নির্ধারণ করা ছিল ৫০-১০০ টাকা। ভাড়া কম হওয়ায় এগুলো পরিচিতি পায় গরিবের অ্যাম্বুলেন্স নামে। যাত্রী বহনের ভাড়ার টাকা থেকে দেওয়া হতো চালকের বেতন। আর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যাটারি চার্জ এবং অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের খরচ বহন করা হতো। উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মুকুল হোসেন বলেন, এসব অ্যাম্বুলেন্সে বিগত সময়ে অনেক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ টাকায়। গরিব মানুষ খুব উপকার পেয়েছিল। এখন অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট থাকায় পরিষদে পড়ে আছে। দিনে দিনে চাকাসহ বডিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেরামত করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় এগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ রনজু বলেন, কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে মেরামত করা হবে। আম্বুলেন্সটি চলাচল উপযোগী করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দ্বিতীয় লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় একটি করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী বলেন, এগুলো মানুষ ব্যবহার করতে চান না। এখন পযাপ্ত আম্বুলেন্স সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে।

এ কারণে এগুলো চলাচল উপযোগী করে তোলার দাবি অনেকটা কমে গেছে। তার পরও মেরামত করার মতো হলে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর