শ্রীপুর উপজেলার মাওনা জে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। ভোগান্তির শিকার হয় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। পানি মাড়িয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টি হয়। সকাল থেকে জলাবদ্ধতার বিষয়টি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে শুরু করে পুরো মাঠ পানির নিচে। দেখে বোঝার উপায় নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নাকি পুকুর। পানি মাড়িয়ে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাঠের কোনো কোনো অংশে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে। গত রবিবার রাতে ও মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্কুলে প্রবেশের রাস্তা না থাকায় শিশুরা প্যান্ট ও জামা হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে কোনোমতে স্কুলে ঢোকে। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাওয়ার জন্য নোংরা পানি মাড়াতে হয়। এতে চর্মরোগসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, আগে বিদ্যালয়ের মাঠের পানি ভবনের পেছনের দিক দিয়ে নিচু জমিতে নিষ্কাশন হতো। গত দুই বছরে ওই জমিগুলোতে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পানি যাওয়ার কোনো পথ নেই। বৃষ্টি হলেই চারপাশের পানি স্কুলের মাঠে জমে এবং দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। অভিভাবকরা জানান, বৃষ্টির দিনে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকেন। প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন কোন অঘটন ঘটে বলা যায় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রতিকার পাইনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, বিদ্যালয়টি শ্রীপুরের সবচেয়ে বড়। জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।