Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : ২৭ মে, ২০১৯ ১৮:৩৬

তরুণ সাংবাদিক ফাগুন হত্যা, গ্রেফতার ১

শেরপুর প্রতিনিধি:

তরুণ সাংবাদিক ফাগুন হত্যা, গ্রেফতার ১
সাংবাদিক ফাগুন

শেরপুরের তরুণ সাংবাদিক ফাগুন খুন হয় সাত দিন আগে। ছেলেকে হারানোর বেদনায় ফাগুনের মা-বাবার কান্না থামছেই না। 

ফাগুনের বন্ধুরা বাসায় আসলেই ওদের ধরে ফাগুনের মা-বাবার আজাহারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। কোন ভাবেই মা-বাবার কান্না থামাতে পারছে না কেউ। 

ইহসান ইবনে রেজা ওরফে ফাগুন ঢাকা থেকে প্রচারিত পোর্টাল প্রিয় ডটকমের সাব-এডিটর ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ফাগুন তেজগাঁও কলেজে ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। 

ফাগুন সাপ্তাহিক শেরপুরের সম্পাদক, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাকন রেজার বড় ছেলে। ফাগুনের দাদা আব্দুর রেজ্জাক ছিলেন শেরপুর থেকে প্রথম প্রকাশিত সাপ্তাহিক শেরপুরের সম্পাদক। আব্দুর রেজ্জাক একজন কবি ও ভাষা সৈনিক ছিলেন। 

ফাগুন গত ২২ মে মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত পনে ৮টা নাগাদ ময়মনসিংহ পৌঁছে বাবার সাথে ফাগুনের শেষ কথা হয়। এরপরে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।ওই রাতেই জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথের নান্দিনা রানাগাছা মধ্যপাড়া রেল লাইনের কাছ থেকে ফাগুনের লাশ উদ্ধার করে। লাশের কোন পরিচয় না পাওয়ায় গত বুধবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্ত করে জামালপুর আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।দুপুর ২টার দিকে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে জামালপুর পৌর গোরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে গেলে লাশটি ফাগুনের হতে পারে সন্দেহ হয়। 

পরে খবর পেয়ে ফাগুনের আত্মীয়-স্বজনরা লাশ সনাক্ত করে শেরপুরে বুধবার সন্ধ্যায় লাশ এনে বৃহস্পতিবার জানাজা করা হয়। ময়নাতদন্তে ফাগুনের গলা ও মাথায় মারাত্নক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। 

এদিকে, লাশ পাওয়ার পর থেকেই তরুণ এই সাংবাদিকের করুণ মৃত্যুতে শেরপুরে টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়। এখনো হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। 
 
ফাগুনের বাবা কাকন রেজার দাবি, ফাগুন হত্যা একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। যে বা যারা এই হত্যার সাথে জড়িত তাদের ধরে আইনের কাছে সোপর্দ করা হোক। আমার ছেলে তো চলে গেছে। আমি অন্তত জানতে চাই- কারা তাকে হত্যা করল। আমার ফাগুন কতটুকু অপরাধ করেছিল। যার জন্য তাকে এভাবে হত্যার স্বীকার হতে হল।

জামালপুর রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (জিআরপি)তাপস চন্দ্র পন্ডিত বলেছেন, হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের সকল দপ্তর একযোগে কাজ করছে।যে কারণে ফাগুনকে হত্যা করা হতে পারে- প্রত্যেকটি বিষয় সামনে নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য