শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ মে, ২০২১ ২০:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের সহিংসতা; খেলাফত মজলিসের সভাপতিসহ গ্রেফতার ১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের সহিংসতা; খেলাফত মজলিসের সভাপতিসহ গ্রেফতার ১০
প্রতীকী ছবি
Google News

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সরাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আবু তাহরেসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা ৪৩৪ জনে দাঁড়ালো। তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করার ৫৬টি মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাদেরকে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে গত ২৭ মার্চ তাদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, কোচ, টেঁটা, বল্লম, ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা করে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করার লক্ষ্যে অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। 

পুলিশ আরো জানায়, সহিংস ঘটনাসমূহের প্রাপ্ত স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক বলে পুলিশের দাবি। 

উল্লেখ্য, হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় সর্বমোট ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় ৪টি ও সরাইল থানায় ২টি ও রেলওয়ে থানায় ১টিসহ সর্বমোট ৫৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসকল মামলায় ৪৩৪ জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। 

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইস উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফকা করা হয়। পরে তাদেরকে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার খবরে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় মাদরাসাছাত্র ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।

এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবন, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরসহ ৩৮টি সরকারি-বেসরকারি  স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় নিহত হয় ১২ জন। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর