১১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৭

লালমনিরহাটে অপহৃত প্রধানশিক্ষক পাঁচদিন পর উদ্ধার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে অপহৃত প্রধানশিক্ষক পাঁচদিন পর উদ্ধার

সংবাদ সম্মেলন

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নামুড়ি গ্রামের দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিনকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের পাঁচদিন পর উদ্ধার ও অপহরণের সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৩টায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি সকালে অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জন লোক একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস ও একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারযোগে ওই শিক্ষকের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। অপহরণকারীদের একজন বাড়ির মূল দরজার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিলে বাইরে থাকা অন্যান্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর প্রথমে শিক্ষকের ভাই মো. রুহুল আমিনের ঘরে ঢুকে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। তখন নূরুল আমিন ঘর থেকে বের হলে অপহরণ করতে আসা ব্যক্তিরা রুহুলকে ছেড়ে দিয়ে নূরুল আমিনকে ধরে এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে

এ সময় শিক্ষকের স্ত্রী মাহফুজা বেগম, ভাই রুহুল আমিন এবং অন্যান্যরা অপহরণকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা এসপি অফিসের লোক বলে জানায়। তাদের নিকট পুলিশের আইডি কার্ড দেখতে ও নূরুলকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় বাড়ির লোকজনদের এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এতে শিক্ষকের চাচা আবু তালেব ও ভাই রুহুল আমিন আহত হয়। পরে শিক্ষককে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে আদিতমারী হয়ে লালমনিরহাট অভিমুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরদিন (৭ জানুয়ারি) আদিতমারী থানায় অপহৃত শিক্ষক নূরুল আমিনের ছেলে বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ শিক্ষক নূরুল আমিনকে উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালায়। টানা পাঁচদিন অনুসন্ধান চালিয়ে অপহৃত শিক্ষক ও অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে ১১ জানুয়ারি ভোরে আদিতমারী থানা পুলিশের একটি টিম ঢাকার তেজগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরণের সাথে জড়িত দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ভোলার পাড়া এলাকার মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল বারী (৪৩) ও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ভূগী এলাকার মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. শফিউল আলম (৩২)। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভবে ধারণা করা হচ্ছে প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন এবং অপহরণকারীদের মধ্যে পূর্বের টাকা লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও অপহরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর