মেহেরপুরের গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজে ‘জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে ঘুষের বিনিময়ে জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে’—এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। পরে কিছু সময় পর কলেজের আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তালাটি খুলে দেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকদের বাদ দিয়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ২৮ নম্বরে থাকা সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলামকে গোপনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াবহির্ভূত ও অনিয়ম বলে দাবি করে তারা জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত কোনো শিক্ষক অফিসকক্ষে প্রবেশ করেননি। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্লাস চলমান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কলেজ পরিচালনা পরিষদের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সহকারী অধ্যাপক বেদারুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে না পেরে তার অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অফিস সহকারীর কাছ থেকে হাজিরা খাতা নিয়ে নেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে সহকারী অধ্যাপক বেদারুল ইসলাম তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কে বা কারা তালা দিয়েছে তিনি জানেন না। তার দাবি, জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভেঙে ২৮ নম্বর শিক্ষককে ঘুষের বিনিময়ে দায়িত্ব দেওয়ায় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তালা কেউ এসে খোলেনি, আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলেছি।’
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর শাহিদুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বেদারুল ইসলাম তালা দিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ