ঢালিউডে নায়িকাপ্রধান ছবি খুব বেশি নির্মিত হয়নি। তারপরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বাজিমাত করেছেন নায়িকারা। এমন বেশ কিছু নায়িকার কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ
সুজাতা (রূপবান)
১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত লোককাহিনিনির্ভর বাংলাদেশি ছবি রূপবান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সালাউদ্দিন। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুজাতা। বাংলার নারীর ধৈর্য, ত্যাগ ও সংগ্রামের অনবদ্য গাথা এটি। একজন নারীর আশা-আকাক্সক্ষা ও মর্যাদাবোধের সফল রূপায়ণ ‘রূপবান’। এতে সুজাতা রূপবান চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পান এবং বাজিমাত করেন।
সুচন্দা (বেহুলা)
বাংলার চিরায়ত লোকগাথা গল্প ‘বেহুলা লখীন্দর’ অবলম্বনে ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান নির্মাণ করেন ‘বেহুলা’ ছবিটি। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। আর এ ছবির মাধ্যমেই নায়ক হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটে নায়করাজ রাজ্জাকের। আর বেহুলা চরিত্রে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়ে দর্শক মনে বেহুলা নামে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নেন সুচন্দা।
কবরী (সারেং বউ)
১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে ‘সারেং বউ’ নির্মিত হয়। এ ছবিতে নাম ভূমিকায় নবিতুন চরিত্রে অসামান্য দক্ষতায় অভিনয় করে কবরী সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
ববিতা (গোলাপী এখন ট্রেনে)
১৯৭৮ সালে নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে আমজাদ হোসেন ছবিটি নির্মাণ করেন। আমাদের সমাজের বাস্তবতায় একজন খেটে খাওয়া গ্রামীণ নারীকে পদে পদে কত সমস্যায় পড়তে হয়, তা দেখানো হয়েছে এ ছবিতে। এত দৃঢ়প্রত্যয়ী নারী গোলাপী চরিত্রে অভিনয় করে ববিতা তাঁর ক্যারিয়ারে সেরা অভিনেত্রীর মর্যাদা লাভ করেন।
শাবানা (ভাত দে)
১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘ভাত দে’ ছবিতে দেখা যায়, সহায়-সম্বলহীন এক দরিদ্র নারীর জীবন সংগ্রাম। আর এই পোড় খাওয়া নারীর চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে শাবানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়া বাংলা ছবির মধ্যে ‘ভাত দে’ প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয় এবং বিদেশেও শাবানার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
সুচরিতা (হাঙর নদী গ্রেনেড)
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সরকারি অনুদানে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধে নারীর ত্যাগ-তিতিক্ষার অসাধারণ রূপায়ণ এ ছবি। ১৯৭১ সালে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের সন্তানকেই মুক্তিযোদ্ধা বলে হানাদারদের হাতে তুলে দেন সুচরিতা। আর বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী নারী বুড়ি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় স্বরূপ জাতীয় পুরস্কার ঘরে তোলেন সুচরিতা।
শাবনাজ (চাঁদনী)
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম ১৯৯১ সালে নির্মাণ করেন ‘চাঁদনী’ ছবিটি। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন শাবনাজ। এটি তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি। এতে চাঁদনী চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন শাবনাজ।
শাবনূর (মোল্লা বাড়ির বউ)
ধর্মান্ধ সমাজে নারীর অসহায়ত্ব ও লড়াইয়ের চিত্র ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ ছবিটি ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেন সালাউদ্দিন লাভলু। এ ছবিতে রিয়াজের দুই বউয়ের চরিত্রে দেখা যায় মৌসুমী ও শাবনূরকে। যারা ছিল ছবির গল্পের প্রাণ। তবে শাবনূরের অভিনয় সব শ্রেণির দর্শকের মন কাড়ে।
মৌসুমী (খায়রুন সুন্দরী)
এ কে সোহেল পরিচালিত ‘খায়রুন সুন্দরী’ ছবিটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। ছবির গল্পটি ছিল একজন নারীর প্রতি তাঁর স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে। গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসাবঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয় তারই একটি গল্প ছিল এখানে। এ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য মৌসুমী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
জয়া আহসান (গেরিলা)
সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ও পরিচালকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত নাসিরউদ্দিন ইউসুফের চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। মুক্তিযুদ্ধ সময়কার গ্রামীণ ও শহুরের প্রেক্ষাপটে অপূর্ব সংমিশ্রণ এ ছবির প্রধান চরিত্র বিলকিস। সেও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেয়। সরকারি অনুদানে নির্মিত অনন্য এ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১১টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। বাংলা চলচ্চিত্রে অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বিলকিস রূপদানকারী জয়া আহসান জিতে নেন জাতীয় পুরস্কার।