Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৪
আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩৫

'জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রলীগ কি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করলো?'

শওগাত আলী সাগর

'জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রলীগ কি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করলো?'
শওগাত আলী সাগর

১. সারাটা দিনই প্রশ্নটা মাথার ভেতর ঘুরছে। ‘খোদ প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে’ সারা দেশে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চরছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন- আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও রেহাই পাবে না- তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আণ্দোলন করতে হবে কেন?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে পরিচালিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযান তো এমনিতেই সেদিকে ধাবিত হ্ওয়ার কথা। দুদকের ছুটে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এসব কিছুই হয়নি। বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ লাঠিয়াল হিসেবে মাঠে নেমেছে। তা হলে বিষয়টা কি দাড়ালো? জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রলীগ কি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করলো? না কি প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনায় যারা আছেন- তারা চুজ অ্যান্ড পিক নীতিতে অভিযান চালায়?

২.জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনাবলী নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের ভাবনা চিন্তা কি তা আমরা জানি না।কিন্তু ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা’, ’হলত্যাগের নির্দেশ’- এই শব্দগুলো বাস্তবিক অর্থেই বাংলাদেশে স্মৃতি হয়ে গিয়েছিলো। এগুলো স্বৈরাচারী সরকারের সময়কার ঘটনা- সেই রকম ঘটনাই বর্তমান সরকারের আমলে ঘটিয়ে দিলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। স্বৈরাচারের সময়কার নিয়মিত হয়ে যাওয়া কলঙ্ক তিলকটা এই সরকারকে পড়তে হবে কেন? কিসের দায়ে?

৩.জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বাপরি সরকারকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তৈরি করেছেন কলঙ্কজনক অধ্যায়ের। এই ভিসিকেই দায়িত্বে রাখতে হবে কেন?

৪. জাহাঙ্গীরনগরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে- সেটি ভিসির তৈরি, ভিসির লাঠিয়াল হিসেবে ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ। ন্যাক্কারজনক ভূমিকা রেখেছে কতিপয় শিক্ষকও। ছাত্ররাজনীতির চেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি যে কতোটা দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে- সেটিও তো আমরা প্রত্যক্ষ করলাম জাহাঙ্গীরনগরে।

আমরা চাইবো- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ ওঠেছে- তার স্বাধীন তদন্ত হোক। তার আগে ভিসিকে সরিয়ে দেয়া হউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অতি অবশ্যই জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রলীগকেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হউক। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধে যে ছাত্রলীগ লাঠিয়ালের ভূমিকায় নামে- তাদের রাজনীতিতে থাকার কোনো প্রয়োজন তো দেখছি না।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, নতুন দেশ ডটকম

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য