শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:০১

ন্যায়ের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াই কেবল সামনেই এগুতে জানে

শওগাত আলী সাগর

ন্যায়ের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াই কেবল সামনেই এগুতে জানে
শওগাত আলী সাগর

টরন্টোর 'লুটেরা রুখো, স্বদেশ বাঁচাও' আন্দোলনের বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবারের একুশের প্রথম প্রহরে তারা শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রতিবাদী কর্মসূচী পালন করবেন। বাঙালি অধ্যুষিত ডেনফোর্থে 'ঘরোয়া' সংলগ্ন পার্কিং লটে বরাবরের মতো এবারও অস্থায়ী শহীদ মিনার হবে। সেই শহীদ মিনারে দলমত নির্বিশেষে টরন্টোর বাংলাদেশিরা সমবেত হবেন একুশের প্রথম প্রহরে। ফুলেল শ্রদ্ধা জানাবেন- বায়ান্নের শহীদদের। সেখানে লুটেরা বিরোধী কর্মসূচী নিয়ে সমবেত হবেন টরন্টোর প্রতিবাদী মানুষগুলোও।

একুশের প্রথম প্রহরে- শহীদ মিনারে প্রতিবাদী কর্মসূচী কেন? কারণ- একুশের চেতনাই তো হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, কোনো ভয়ভীতির কাছে মাথানত না করা। এক শ্রেণির লুটেরা জন্মভূমির সাথে যে অন্যায় আচরণ করেছে, তার প্রতিবাদ জানানোর জন্য। আন্দোলনটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণের জন্য একুশের প্রথম প্রহরের চেয়ে উত্তম মুহুর্ত আর কি হতে পারে। একুশের চেতনার পথ ধরেই একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে, একুশ আর স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল মন্ত্রটাই তো হচ্ছে- অন্যায়রে বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। লুটেরাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনটা তো তারই সমার্থক।
জন্মভূমি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে লুটপাট করা অর্থ নিয়ে কানাডায় বসতি গড়া লুটেরাদের বিরুদ্ধে গত মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনটা অল্প সময়েই ভিন্নতর মাত্রা পেয়েছে। কেবল কানাডায়ই নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্নদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এই আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। প্রত্যেকেই এই আন্দোলনটাকে তাদের নিজেদের আন্দোলন হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। কানাডার মূলধারার রাজনীতিকরা, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে খোঁজ খবর করতে শুরু করেছেন। এগুলো অবশ্যই আন্দোলনের সাফল্য।
আরেকটা কথা বলি। লুটেরাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে কারা নেই, কারা লুটেরাদের পক্ষে কিংবা তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে- এইসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নৈতিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে শুরু হওয়া লুটেরা বিরোধী এই আন্দোলনের সাথে বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষই আছেন, তারাই এই আন্দোলনের শক্তি। লুটেরা বিরোধী আন্দোলন কেবল সামনেই এগুবে, পেছনে যাওয়ার কোনো রাস্তা একেবারেই নেই।
লুটেরা, অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে টরন্টোর বন্ধুদের প্রতিবাদী কর্মসূচীর প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রইলো। আমি বিশ্বাস করি, টরন্টোর বন্ধুরা সেদিন লুটেরাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা সম্বলিত প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড নিয়েই শহদি মিনারে আসবেন। একুশের চেতনায় লুটেরা বিরোধী আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নেয়ার নতুন শপথ নেবেন। ন্যায়ের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াই কেবল সামনেই এগুতে জানে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য