শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মে, ২০১৯ ২৩:১৫

অখুশি নয় বাংলাদেশ

অখুশি নয় বাংলাদেশ

কার্ডিফে সকাল থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। কখনো কখনো থেমেও যাচ্ছিল। খেলার জন্য অধির আগ্রহে ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করছিলেন ক্রিকেটাররা। প্রত্যাশা নিয়ে গ্যালারিতে বসেছিলেন দর্শকরাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে গেল। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার একটা ভালো সুযোগ নষ্ট হয়ে গেল বাংলাদেশের। টাইগারদের পরের প্রস্তুতি ম্যাচ আগামীকাল ভারতের বিরুদ্ধে। এই কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনেই। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় কিছুটা হতাশা থাকলেও অখুশি নয় বাংলাদেশ। কেন না আয়ারল্যান্ড থেকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই ইংল্যান্ডে এসেছেন মাশরাফিরা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে টাইগার কোচ স্টিভ রোডস বলেন, ‘কিছুটা হতাশ হলেও আমরা অখুশি নই। কেন না বাংলাদেশ দল এখন খুবই ভালো অবস্থায় আছে। আয়ারল্যান্ড থেকেই আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। কন্ডিশন তো অনেকটা একই।’ বাংলাদেশ দলে এখন মধুর সমস্যা একাদশ গঠন নিয়ে। পারফরমারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কাকে রেখে কাকে নিয়ে নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট? এজন্য প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা খুবই দরকার ছিল। কিন্তু কোচ বললেন ভিন্ন কথা। রোডসের দাবি, ‘একাদশ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা কাকে দলে রাখব তা ঠিক করাই আছে।’ কোচের কাছে সমাধান থাকলেও দুই তারকা সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন জানেন, প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্ব তাদের কাছে অপরিসীম। কেন না এই দুই তারকা যে লড়াই করছেন এক পজিশনের জন্য। সাব্বির রহমান গত সফরে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে দারুণ একটা সেঞ্চুরি করে একাদশে নিজের জায়গা বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সাকিবের ইনজুরির কারণে দলে সুযোগ পেয়ে মোসাদ্দেক মাত্র ২০ বলে সাইক্লোন গতির এক হাফ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দেওয়ার পাশাপাশি সাব্বিরের জায়গাটা নড়েবড়ে করে দিয়েছেন। তারপরও বিশ্বকাপের একাদশে থাকার নিশ্চয়তা পাননি মোসাদ্দেক। প্রস্তুতি ম্যাচকে ‘পাখির চোখ’ করে রেখেছিলেন একাদশে সুযোগ করে নেওয়ার গেটওয়ে হিসেবে। তাই এই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় মোসাদ্দেকের ভিতর কিছুটা হতাশা করাই স্বাভাবিক। যদিও মুখে বলেছেন, এ কারণে তিনি হতাশ নন। মোসাদ্দেক বলেন, ‘চিন্তা ছিল প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো কিছু করব। তবে যেহেতু হয়নি কি আর করার আছে। তবে কে একাদশে সুযোগ পেল না পেল তা নিয়ে কোনো কিছু ভাবছি না। আমি সুযোগ পেলে সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার কাছে সবার আগে দল।’ সাব্বির রহমান বলেন, ‘আমি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলি। মাঠে নামলে ভাবি, একটাই আমার শেষ ম্যাচ। যা করার এই ম্যাচেই করতে হবে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে পারলে ভালো হতো।’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি মাঠে না গড়ালেও পরের প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে এখন চিন্তা করছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লন্ডনে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ভারতের মতো ফেবারিট দলকে হারাতে পারলে মন্দ হবে না। টাইগারদের এখন একটাই ভাবনা, কার্ডিফ থেকে মধুর একটা জয় নিয়েই লন্ডনের পথে রওনা হওয়া।


আপনার মন্তব্য