শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:০৩

তাপস-খোকনকে নিয়ে দুদক এখন কী করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাপস-খোকনকে নিয়ে দুদক এখন কী করবে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান ও সাবেক মেয়রের পরস্পরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ‘নিশ্চুপ’ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সরকারের  মেগা দুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোঁটা চিত্র দু-একজনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস (শেখ ফজলে নূর তাপস) শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন। অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। দুজনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি ও লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট- দুজনই লুটেরা, দুর্নীতিবাজ। এখন দুদক কী করবে। তামাশা দেখবে না পদক্ষেপ নেবে? তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে তো এক মিনিটেরও সময় লাগে না। মিথ্যা-বানোয়াট-কাল্পনিক মামলাকে দুদুক একেবারে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দুদুকের চেয়ারম্যান প্রেস ব্রিফিং করে বিএনপির নেতাদের নামে কথা বলেন। আমাদের প্রশ্ন- এখন দুদক নিশ্চুপ কেন? আমরা যে আগে বলতাম দুদক হচ্ছে ধোপাখানা। আওয়ামী লীগের অনাচার, দুর্নীতি, লুটপাট একেবারে সুন্দর করে মুছে দেয়। আর বিরোধী দলের মিথ্যা জিনিসকে সে সুন্দরভাবে সাজায়। এভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। আসলে নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন করেছেন, তেমনি দুদক ও বিচার বিভাগে লোক নিয়োগ দিয়েছেন। যারা এক পা-ও শেখ হাসিনার বাইরে যায় না। উদ্দেশ্য একটাই- গণতন্ত্র ও বিএনপিকে ধ্বংস করা। মেয়র তাপস ও সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোন মধুর লোভে ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন। সেই মধুভান্ডে র কাহিনি সেই আরব্য রজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই বাস্তবে ঘটেছে। দুজনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এ নেতা বলেন, কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছেন, এসব কথার উদ্দেশ্য যাই হোক, অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খোদ ওবায়দুল কাদের সাহেব জিতবেন কিনা তার আপন ভাই-ই এ প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের এ তিনজন (কাদের মির্জা, সাঈদ খোকন, ফজলে নূর তাপস) নেতার বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের ‘টপ টু বটম’ আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পেরেছে এ নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর