৫০ বছরের বেশি সময় পর চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে প্রথম মানববাহী অভিযানে অংশ নেওয়া নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৫টা ৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে ওরিয়ন মহাকাশযানটি। এ অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানে ছিলেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। অবতরণের পর এন্ট্রি ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং জানান, নভোচারীরা ৭ লাখ ২৩৭ মাইল ভ্রমণ করেছেন এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ছিল ২৪ হাজার ৬৬৪ মাইল। নভোচারীরা সবাই ‘প্রফুল্ল ও সুস্থ’ আছেন।
এই প্রত্যাবর্তন লকহিড মার্টিন নির্মিত ওরিয়ন মহাকাশযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে প্রমাণ হলো, চাঁদ থেকে ফেরার সময় সৃষ্ট তীব্র তাপ ও চাপসহ কঠিন সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসা সম্ভব। ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চার নভোচারী যাত্রা শুরু করেন। অভিযানে তারা চাঁদের অদেখা পাশ ঘুরে আসেন এবং ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সিস্টেম পরীক্ষা করেন।
আর্টেমিস মিশন : আর্টেমিস কর্মসূচি হচ্ছে অ্যাপোলো যুগের পর নাসার আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচি। মিশনের কারণ : এ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় নিয়ে যাওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’ : পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব পেরিয়ে চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসেছেন নভোচারীরা। চাঁদ প্রদক্ষিণের এই যাত্রা বা ফ্লাইবাই প্রায় ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। চাঁদের অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় তারা সেই দৃশ্য দেখেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি। আর্টেমিস-২ মিশনের রেকর্ড : প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ পেরিয়েছেন আর্টেমিস-২ এর পাইলট ভিক্টর গ্লোভার।
প্রথম নারী ও প্রথম অমার্কিন নাগরিক হিসেবে এ ইতিহাসের সঙ্গী হয়েছেন যথাক্রমে ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। নাসা বলেছে, এ মিশনের সাফল্য মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল। আর্টেমিস-৩ মিশন উৎক্ষেপণ হবে ২০২৭ সালে।