লক্ষ্মীপুরে একটি মারামারি মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামে এক নারীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে শিল্পীর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে তার দুধের শিশুটিকেও। অন্যদিকে স্কুলড্রেস পরিহিত তার আরও দুই সন্তান গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জেলগেটে। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সদরের পেশকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিআর ৫৬৫ মামলায় আসামি শিল্পী ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুরে আদালতের বিচারক শাহ জামাল এ নির্দেশ দেন। আমরা আসামিদের আদালতের পুলিশ হাজতে দিয়েছি। পরে বাচ্চাকে কারাগারে নিয়েছে নাকি বাসায় নেওয়া হয়েছে তা জানি না। এদিকে প্রিজনভ্যানের ভিতর মায়ের কোলে থাকা শিশুটি ও জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সন্তানের ছবি ফেসবুকে দিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এর সঙ্গে ঘটনার দিনের একটি ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন।
এ ব্যাপারে আইনজীবী স্বপন বলেন, দুধের শিশু সিয়ামসহ শিল্পী এখন কারাগারে রয়েছে। তার অন্য দুই সন্তান পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮) জেলগেটে গিয়ে মায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা চলমান। আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন স্ট্যাটাসটিতে (হুবহু) লেখেন, ‘মায়ের সঙ্গে দুগ্ধজাত এক বছরের শিশুটিও হাজতে। অভিযোগ লোহার রড দিয়ে বাড়ি, এমসি নীল। আরও দুটি শিশু বাচ্চার পরীক্ষা চলমান। ৪৯৭ ও কাজ হয়নি, সদরে স্বাধীন ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছি। মায়ের জন্য দুটি বাচ্চা জেল খানার সামনে দাঁড়িয়ে’। ভিডিওর বিশ্লেষণে তিনি লিখেছেন, ‘দেখুন তো গোলাপি জামা পরা মেয়েটির হাতে কি লোহার রড আছে? সে তো মার খাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে সে মেরেছে এবং জেলে’।