Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:২৬

বয়স বাড়লে শরীরে কী হয়!

বয়স বাড়লে শরীরে কী হয়!

বয়স বাড়লেই কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। চিরায়ত এই নিয়মে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মাঝেই উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। বয়স তো আটকানো সম্ভব নয়, কিন্তু তাতে করে শরীর একদিকে যেমন ফিট থাকত তেমনি অন্যদিকে বয়স দ্রুত বাড়া এবং শরীর ও ত্বকে বয়সের ছাপটাকে আটকানো সম্ভব হতো

 

বয়স বাড়া যদিও স্বাভাবিক এবং অনিবার্য প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুস্থ জীবন পদ্ধতির মাধ্যমে বয়স বাড়ার গতিকে কিছুটা হলেও দূরে রাখা যায়। সন্তান উৎপাদন প্রক্রিয়া তখন কিছুটা জটিল হয়।

বয়স বাড়লে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলছে, ‘একেকজন মানুষের বয়স বাড়ার লক্ষণ একেক রকম। আসলে বয়স বাড়লে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেয় যা থেকেই বোঝা যায় বয়স বেড়েছে।’

 

o মানব দেহে ডিএনএ শরীরের ভিতরের কোষগুলোয় এক ধরনের জেনেটিক কোড  প্রবাহিত হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে ভুল হওয়ার সুযোগ বাড়ে। ভুলগুলো শরীরের কোষে জমা হতে হতে এক সময় স্টেম সেলের কার্যকারিতা কমে আসে।

o সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কোষগুলো চিনি ও চর্বিজাতীয় উপাদান পরিপাক করার ক্ষমতা কমতে থাকে। যার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে থাকে।

o কোনো কোনো কোষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে, সেটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কোষগুলোর মৃত্যু হয় না। কিন্তু তা চারপাশের কোষগুলোকেও জোম্বি বা ভৌতিক কোষে পরিণত হতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে জ্বালাপোড়া বাড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

ডিএনএকে একটা সুতার মতো ধরলে, এর মাথায় ঢাকনা থাকে যা ক্রোমোজোমকে রক্ষা করে। বয়স বাড়ায় ঢাকনাগুলো আলগা হয়ে যেতে থাকে। ফলে ক্রোমোজোমসমূহের তখন কোনো সুরক্ষা থাকে না।

o মানবদেরে অভ্যন্তরে ডিএনএ এক্সপ্রেশন নামে একটি প্রক্রিয়া আছে, যা কোষের মধ্যে থাকা হাজারো জিন নির্ধারণ করে ওই কোষের কার্যক্ষমতা। অর্থাৎ ওই নির্দিষ্ট কোষটি দেহের ত্বক হিসেবে কাজ না করে মস্তিষ্ক হিসেবে আচরণ করতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের সেই কোষগুলোর আচরণ বদলে যেতে শুরু করে।

o শরীরে সারাক্ষণই কোষেরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগাযোগ কমতে থাকে। ফলে শরীরে কথাবার্তা বলতে সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ শরীরের সতর্ক একটা ভাব হারিয়ে যেতে থাকে।

o ক্ষয় হয়ে যাওয়া কোষের পরিমাণ যেন  না বাড়ে তাই শরীরের ক্রমাগত নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা আছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের সেসব দক্ষতা কমে। তখন কোষ  অপ্রয়োজনীয় বা বিষাক্ত প্রোটিন জমাতে শুরু করে। যার ফলে চোখের ছানি ও পারকিনসন্স রোগ দেখা দেয়।

o মাইটোকন্ড্রিয়া শরীরের কোষে শক্তি জোগান দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কর্মক্ষমতাও হ্রাস পেতে থাকে। আর মাইটোকন্ড্রিয়া যাদ ঠিকমতো কাজ করতে না পারে তা ডিএনএ’র জন্য খারাপ। তবে, কিছু গবেষণা বলছে, মাইটোকন্ড্রিয়ার কর্মদক্ষতা যদি নতুন করে বাড়ানো যায়, তাহলে সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর আয়ু বাড়ানো সম্ভব।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেম সেল এবং শরীরে কোষ পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, স্টেম সেলের এই শক্তি কমে যাওয়া ঠেকানো গেলে বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দেওয়া যেত।

 

♦ হেলথ ডেস্ক


আপনার মন্তব্য