শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:২৬

রোমানিয়ায় বাড়ির নিচ থেকে নিউটন-গ্যালিলিওর গ্রন্থসহ ২০০ দুষ্প্রাপ্য বই উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

রোমানিয়ায় বাড়ির নিচ থেকে নিউটন-গ্যালিলিওর গ্রন্থসহ ২০০ দুষ্প্রাপ্য বই উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

আইজ্যাক নিউটন, গ্যালিলিও, কোপারনিকাস ও স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী ফ্রান্সিসকো গোয়ার মতো একাধিক বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের লেখা ২০০টি দুষ্প্রাপ্য বই। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকারও বেশি। নিলামে উঠলে যা স্বাভাবিকভাবে আরও বেড়ে যাবে। এমন জিনিস কিনা মিলল রোমানিয়ার একটি গ্রামের বাড়িতে মাটির নিচে চেপে রাখা অবস্থায়। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়েছে রোমানিয়ার পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে। যদিও তদন্তে একাধিক সংস্থা যুক্ত ছিল।

জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত তিন বছর আগে থেকে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে পশ্চিম লন্ডন থেকে এক সুপরিকল্পিত ডাকাতি করে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ২০০টি দুষ্প্রাপ্য বই। লাস ভেগাসে নিলামে নিয়ে যাওয়ার আগে ফেল্টহ্যামের ওয়্যারহাউসে বইগুলো একত্রে রাখা হয়েছিল। ছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়েছিল এই ডাকাতদের পরিকল্পনা। ওয়্যারহাউসের ছাদে গর্ত করে সেখান থেকে তারের সাহায্যে ভিতরে ঢোকে তারা। যাতে কোনও সেন্সরে ধরা না পড়তে হয়, তারও বিস্তারিত প্ল্যানিং করেছিল ডাকাতরা। ১৬টি বড় ব্যাগে সব বই ভরে ওই পথেই চম্পট দেয় তারা। এরপর তিন বছর ধরে তল্লাশি চলে। একাধিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামে। অবশেষে উত্তর-পূর্ব রোমানিয়ার নিমৎজ গ্রামের একটি পুরনো বাড়ির মাটির তলা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বইগুলি। ডাকাতি হওয়া বইগুলির বেশিরভাগই ষষ্ঠদশ এবং সপ্তদশ শতকের। এর মধ্যে রয়েছে আইজ্যাক নিউটন, গ্যালিলিও, কোপারনিকাস, স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী ফ্রানসিস্কো গোয়াসহ একাধিক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বই।

এই প্রসঙ্গে অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বইগুলি অত্যন্ত মূল্যবান। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই বইগুলির কোনও দ্বিতীয় সংস্করণ নেই। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দিক থেকেও এই সব বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দুষ্প্রাপ্য বইগুলি খুঁজে বের করতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছেন ডিটেক্টিভ কনস্টেবল ডেভিড ওয়ার্ড এবং জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা। তবে বইগুলো ভালভাবে রাখা ছিল না। আপাতত সেগুলোকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। দেখা হবে কোনওটিরও ক্ষতি হয়েছে কি না।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর