৩ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:৫১

‘চীন কখনো অন্যকে আক্রমণ করবে না’

অনলাইন ডেস্ক

‘চীন কখনো অন্যকে আক্রমণ করবে না’

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ফাইল ছবি।

চীন কখনো অন্যকে আক্রমণ বা পীড়ন করেনি এবং করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনের জনগণ শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ধারণা অন্বেষণের জন্য সর্বদাই সুপ্রসিদ্ধ এবং সংগ্রামী। চীন কখনো অন্যকে আক্রমণ বা পীড়ন করেনি এবং করবেও না বা আধিপত্য চাইবে না।

চীন সর্বদাই বিশ্ব শান্তির নির্মাতা, বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানকারী, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার রক্ষক ও জনপণ্য সরবরাহকারী। চীন নিজেদের নতুন উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন সুযোগ এনে দিতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

শি জিন পিং বলেন, এ মুহূর্তে কোভিড-১৯ বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং মানব সমাজে গভীর পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্ব এক নতুন বিশৃঙ্খলা এবং রূপান্তরের সময়ে প্রবেশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কের ওপর বর্তায় আমাদের সময়ের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস, সাহস ও লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যয় নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রথমত আমাদের অবশ্যই কোভিড-১৯-কে পরাজিত করতে হবে এবং এ চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয়ী হওয়া মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়েরও ইতিহাস। বাধা অতিক্রম করে মানবজাতি সর্বদা বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বৃহত্তর উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমান মহামারি প্রবল হলেও আমরা নিশ্চিতভাবে এটি কাটিয়ে উঠবো এবং জয়ী হবো, যোগ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র টিকাদান। টিকাকে বিশ্বের জনসাধারণের পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকার সহজলভ্যতা ও টিকা যাতে সাশ্রয়ী হয়, সেটা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমি অনেকবার জোর দিয়েছি। বিশ্বব্যাপী টিকার অবাধ ও ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বকে মোট ২০০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করতে চীন প্রচেষ্টা চালাবে। কোভ্যাক্সে ১০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদানের পাশাপাশি চীন এ বছরজুড়ে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে ১০ কোটি ডোজ টিকা অনুদান দেবে। ভাইরাসের উৎপত্তির বিষয়ে বৈশ্বিক বিজ্ঞান ভিত্তিক অনুসন্ধানে চীন সমর্থন দিয়ে যাবে ও যুক্ত থাকবে এবং যে কোনো প্রকার রাজনৈতিক চক্রান্তের বিরোধিতা করবে কঠোরভাবে।

শি জিন পিং বলেন, জাতিসংঘের উচিত সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতাবাদের নিশানকে উঁচু করে তুলে ধরা এবং সর্বজনীন নিরাপত্তাকে সম্মিলিতভাবে সুরক্ষা প্রদান ও উন্নয়নের অর্জন ভাগাভাগির জন্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করা এবং পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্য গতিপথ নির্ণয় করা। জাতিসংঘের উচিত স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক ব্যাপারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও সংলাপ বাড়ানো এবং গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আইনের শাসন এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দেওয়া। জাতিসংঘের উচিত নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের তিন ক্ষেত্রের সবগুলোতে ভারসাম্যপূর্ণভাবে কাজ করা। এটির উচিত অভিন্ন এজেন্ডা ঠিক করা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা ও সত্যিকারের কার্যকলাপে নজর দেওয়া এবং বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি সব পক্ষের করা প্রতিশ্রুতি সত্যিকারভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তা দেখা।  

চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিশ্ব আবার এক ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আমি নিশ্চিত যে মানবতার জন্য শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অনিবার্য। আসুন আমরা আত্মবিশ্বাস বাড়াই এবং সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি এবং মানবজাতির জন্য অভিন্ন লক্ষ্যের সম্প্রদায় ও সবার জন্য উন্নতর পৃথিবী গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করি।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর