ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশটির চলমান বিক্ষোভে সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের পরিস্থিতি এখন শুধু আলোচনার বিষয় নয়, তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজা পাহলভি ইরানের জনগণকে ‘আমার স্বদেশবাসী’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ ইরানের বিক্ষোভকারীদের সাহস দেখেছে এবং তাদের কণ্ঠ শুনেছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেন, কর্তৃপক্ষ যেন স্বাভাবিক জীবন ফিরে এসেছে—এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা (বাস্তব নয় এমন চিত্র) তৈরি করতে না পারে।
রেজা পাহলভি একই সঙ্গে ইরানের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন। তিনি সেনাদের বলেন, তারা যেন নিজেদের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার সেবক হিসেবে না দেখে দেশের জনগণের রক্ষক হিসেবে ভাবেন। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, তাদের হাতে সময় খুব বেশি নেই এবং এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
১৯৬০ সালে তেহরানে জন্ম নেওয়া রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র। শৈশবেই তাকে যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। তবে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতনের পর তার সিংহাসনে বসার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানায়, বুধবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী কয়েক দিনে আরও জানাজা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জন্য সরকার ‘বিদেশি শক্তি’কে দায়ী করেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল