ইরানে সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা উসকানিদাতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রবিবার দেশটির বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেয়ি জানিয়েছেন, যারা বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, সামান্যতম নমনীয়তা দেখানো হবে না তাদের বিচারের ক্ষেত্রে।
ইরানে জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয়। একে গত কয়েক বছরের মধ্যে ইরানের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা মিজান অনলাইন জানিয়েছে, এজেয়ি জানিয়েছেন যে, দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংসতার মূল হোতাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত সাজা দেওয়া এখন জনগণের দাবি। বিক্ষোভ প্রশমিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর দমন-পীড়ন এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কয়েক দিন পর এই মন্তব্য করলেন বিচার বিভাগীয় প্রধান। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হয় এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়।
বিচার বিভাগীয় প্রধান এজেয়ি বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জোর দিয়ে বলেছেন, যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে কিংবা অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে জনজীবন বিপন্ন করেছে, তাদের বিচার হবে আপসহীনভাবে। ন্যায়ের স্বার্থেই এই অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ মন্তব্য করেছেন যে, ইরান কোনো বিদেশি হুমকিতে ভয় পায় না এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বাংকারে লুকিয়ে নেই। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মুম্বাইয়ে অবস্থানরত এই কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত। তার ভাষায়, দেশের সর্বোচ্চ নেতা নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় সব বৈঠক করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় আছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তবে তিনি কোনো বাংকার বা গোপন আশ্রয়ে লুকিয়ে নেই।
সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রসঙ্গে কনসাল জেনারেল দাবি করেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি ধৈর্য ও সংযম দেখায়। তবে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিদেশে অবস্থানরত কিছু গোষ্ঠীর নির্দেশে সহিংসতা ও নাশকতা শুরু হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে সাধারণ মানুষ ও সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, যেমন বিমানবাহী রণতরী পাঠানো প্রসঙ্গে মোতলাঘ বলেন, ইরান অতীতেও আগ্রাসন প্রতিহত করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কোনো শক্তি আক্রমণ করলে ইরান পূর্ণ শক্তিতে আত্মরক্ষা করবে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইসরায়েল, আল-আরাবিয়া
বিডি প্রতিদিন/এএম