শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:২৮

পোশাক শ্রমিকদের দাবি

প্রণোদনার টাকা জমা দেওয়া হোক আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

রুহুল আমিন রাসেল

প্রণোদনার টাকা জমা দেওয়া হোক আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বেতন হিসেবে ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার টাকা সরাসরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানিয়ে তারা বলেন, মালিকরা যাতে এ টাকা আত্মসাৎ করতে না পারেন, সেদিকে সরকারের নজরদারি থাকা চাই। নজরদারি না থাকলে এ টাকা ভুক্তভোগী পোশাকশ্রমিকদের হাতে যাবে না।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রতিদিন বাতিল হচ্ছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ। এ খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর তথ্য বলছে, সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশি ৯৬৯টি পোশাক কারখানার ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৬৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার পোশাকশ্রমিকের কর্মসংস্থান।

এমন প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।’

এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে শ্রমিকদের নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকরা এবার রাজনীতি করেছেন। আমরা সবেতনে শ্রমিকদের ছুটি চাই। এখন সব শ্রমিকেরই ব্যাংক হিসাব আছে। তাই সরকারকেই ঘোষিত বেতন-ভাতার টাকা সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। তা হলেই প্রকৃত শ্রমিকরা টাকা পাবেন। কারণ, মালিকরা শ্রমিকদের আদৌ টাকা দেবেন কিনা তাতে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ‘সরকার মালিকদের বড় ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা দিয়েছে। এখন শ্রমিকদের জন্য দেওয়া সরকারি টাকাও যদি মালিকদের দেন, তা আত্মসাৎ হবে। কিন্তু ৫ হাজার কোটি টাকা ৪০ লাখ শ্রমিক পেলে, এক একজন শ্রমিক ভালো অঙ্কের টাকাই পাবেন। আমাদের দাবি, এ টাকা যেন মালিকদের লুটপাটের খাত না হয়। সরকার ও মালিকপক্ষকে যৌথভাবে এ টাকা প্রকৃত শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে দিয়ে দিতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘এত দিনেও কারখানা বন্ধ না হওয়াটা দুঃখজনক। তারপর প্রধানমন্ত্রী যে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছেন, তাও যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী রেশনিং প্রয়োজন। প্রণোদনার অর্থ শ্রম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে মনিটরিং করা দরকার। নইলে এ টাকা আত্মসাৎ ও অপব্যবহার হবে।’


আপনার মন্তব্য