লেখক ও বৈজ্ঞানিক অভিজিত রায়কে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনের ট্রাফেলগার স্কয়ারে 'আই এম অভিজিৎ অ্যাকশন গ্রুপ লন্ডন'-এর ডাকে প্রতিবাদ সভা ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা হয় রবিবার (১ মার্চ)।
ন্যাশনাল গ্যালারির সামনে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্লাকার্ড, হ্যান্ড নোট, ব্যানার নিয়ে মানুষ ‘ও আলোর পথযাত্রী এবং আগুনের পরশমনি’ গানের ভেতর দিয়ে শোক জ্ঞাপন করে। লন্ডনের বিভিন্ন মুক্ত যুক্তিবাদী ও সামাজিক সংগঠনের মুখপাত্ররা এই সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সহমর্মিতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ধর্মান্ধতা প্রসূত সাম্প্রতিক উন্মাদনা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেন্টার ফর সেক্যুলার স্পেসের ডাইরেক্টর গীতা সাইগল।
বাংলাদেশে প্রগতিশীল চিন্তার চর্চাকারীদের এই হত্যায় ভীত না হয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তি সঞ্চয় করতে আহ্বান জানান নারীবাদী গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের শিক্ষক রুমানা হাশেম। তিনি বলেন, আমরা এখানে শুধু এসেছি শুধু শোক প্রকাশ করতে নয় বরং দাবি আদায় করতে।
গত দশ বছরে বাংলাদেশে ইসলামিক চরমপন্থীদের নৃশংসতা দেশটির বাকস্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক অবক্ষয়কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন চিকিৎসক ও রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
এছাড়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত প্রগতিবাদী আলিয়াহ সালিম, ইরানি বংশোদ্ভূত ম্যাগডুলিন আবাইদা, মরোক্কান মানবতাবাদী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ইমাদ ইদাইন হাবিব, বৃটিশ-বাংলাদেশি নারীবাদী জরজি ভেমিস, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অজন্তা দেব রায়, অনুজিত সরকার, স্মৃতি আজাদ ছাড়া আরও অনেকে। যুক্তরাজ্যের সত্যেন সেন স্কুল অব পারফরমিং আর্টস, নারী দিগন্ত, এক্সট্রাডাইট মইনুদ্দীনসহ নানান বাঙালি সংগঠন অভিজিত রায়ের শোক ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ ও একাত্মতা প্রকাশ করেন।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোক সভায় পথচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমর্থন জ্ঞাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। সভায় বাংলাদেশ সরকারের বাক স্বাধীনতা ও জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবার দায় স্বীকার করতেও দাবি জানানো হয়।
বিডি-প্রতিদিন/ ০৩ মার্চ, ২০১৫/ রশিদা