শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

একাই ব্যাট করলেন তামিম!

যারা খেলা দেখেননি শিরোনামটি দেখে তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একা কি ব্যাট করা যায় নাকি? হ্যাঁ, তামিম ইকবাল একাই ব্যাট করেছেন গতকাল! তা না হলে কি ড্যাসিং ওপেনারের স্কোর যেখানে ৬৫ রান সেখানে দলের স্কোর মাত্র ১৩৬!

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একাই ব্যাট করলেন তামিম!

যারা খেলা দেখেননি শিরোনামটি দেখে তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, একা কি ব্যাট করা যায় নাকি? হ্যাঁ, তামিম ইকবাল একাই ব্যাট করেছেন গতকাল! তা না হলে কি ড্যাসিং ওপেনারের স্কোর যেখানে ৬৫ রান সেখানে দলের স্কোর মাত্র ১৩৬! তামিমের ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল সাতটি বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কার মার।

একপ্রান্তে তামিম উইকেট আগলে রাখলেও আরেকপ্রান্তে একের পর এক উইকেট পতন হতে থাকে। ক্রিকেট জুটির খেলা। কিন্তু কাল বড় কোনো জুটিই গড়ে ওঠেনি। সর্বোচ্চ জুটিটি ৪৫ রানের, চতুর্থ উইকেটে তামিমের সঙ্গে আফিফ হোসেনের ৪৫ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রানের জুটিতেও আছেন তামিম। বলার মতো আর কোনো জুটি নেই। গতকালের বাকি পাঁচটি জুটিই বিশের নিচে রান হয়েছেন।

ওপেনিংয়ে নেমে ১৮তম ওভার পর্যন্ত ব্যাট করেছেন তামিম। যখনই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হতে গেছেন তখনই আরেকপ্রান্তে উইকেটের পতন হয়েছে। আগের ম্যাচের চেয়ে গতকালের স্কোরটা আরও পাঁচ রান কম হয়েছে।

প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, ব্যাটিংয়ে অন্তত ১৫ রান কম হয়েছে। গতকালও গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রায় একই রকম স্লো উইকেটে খেলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং ঠিক আগের দিনের মতোই।

গতকাল উইকেট পতন শুরু হয় দ্বিতীয় ওভারেই। নাঈম শেখ উইকেটরক্ষকের কাছে ক্যাচ তুলে দেন। প্রথম ম্যাচে দারুণ একটি ইনিংস খেললেও গতকাল প্রথম বলেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন এই তরুণ তারকা।

ওয়ানডাউনে নামিয়ে দেওয়া হয় মেহেদি হাসানকে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের হয়ে দারুণ ব্যাটিং করায় পাকিস্তান সফরের দলে ফেরেন এই মেহেদি। তার স্পিন বোলিংয়ের কথা চিন্তা করে মোহাম্মদ মিথুনের জায়গায় তাকে নামানো হয়। পাকিস্তানি পেসার ইমাদ ওয়াসিমের বলে দারুণ এক ছক্কাও হাঁকান। কিন্তু পেসার মোহাম্মদ হাসনাইনের বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দেন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় সফরকারীরা।

তবে বাংলাদেশের এই দলের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ লম্বা।  চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। তিনিও সুবিধা করতে পারেননি। ৮ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি স্কোরবোর্ডে। লেগ স্পিনার সাদাব খানের বলে লেগ বিফোর হয়ে যান। তবে দুভার্গ্য লিটনের। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। গ্রাফে দেখা যায়, বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় হালকা স্পর্শ করে! আম্পায়ার্স কল না হলেই বেঁচে যেতেন লিটন। আফিফ হোসেন নেমে ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন তামিমকে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা করেছেন ৪৫ রান। ম্যাচে এটিই ছিল সর্বোচ্চ রানের জুটি। তামিম দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেললেও আক্ষেপ জাগিয়েছে তার ‘রান আউট’টি। ইনিংসের ১৮তম ওভারে আউট হয়েছেন ড্যাসিং ওপেনার। দলের ক্রশিয়াল সময়ে বাইশগজ ছাড়তে হয়েছে। আগের ম্যাচেও এই রান আউটের ফাঁদেই আটকা পড়েছিলেন দেশসেরা ওপেনার।

স্লগ ওভারে যখন হাত খুলে খেলতে শুরু করেছেন তামিম তখনই দুর্ঘটনার শিকার হলেন। এরপর রানের গতি আর বাড়েনি। উইকেটে মাহমুুদুল্লাহ থাকলেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি। গতি তারকা হারিস সোহেলের বলে আউট হওয়ার আগে ১২ বলে করেছেন ১২ রান।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের টার্গেটটা ছিল খুবই সহজ- ১৩৭ রান! আরও সহজ হয়ে যায় মুস্তাফিজদের নখদন্তহীন বোলিংয়ের জন্য। যদিও শুরুতেই পাক ওপেনার এহসানকে আউট করে অন্যরকম কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শফিউল। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটি বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ অপরাজিত ১৩১ রানের জুটি গড়েন। ৯ উইকেটের সহজ জয় পায় পাকিস্তান। ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করেন বাবর, ৪৯ বলে ৬৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন হাফিজ। এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেল বাংলাদেশের। আগামীকাল সিরিজের শেষ ম্যাচ। একই মাঠ, গাদ্দাফি স্টেডিয়াম-লাহোর।


আপনার মন্তব্য