শিরোনাম
শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা
প্রথম টি-২০ আজ

বিভীষিকাময় সমুদ্রযাত্রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিভীষিকাময় সমুদ্রযাত্রা

কেউ কেউ অসুস্থ, আতঙ্কিত। আবার কেউ কেউ রোমাঞ্চিত। টাইগারদের আনন্দ-বেদনার এক সমুদ্র যাত্রা

উত্তাল আটলান্টিক ঘেরা এবং পাহাড় বেষ্টিত সৌন্দর্য দেখতে ফি বছর সারা বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোতে। সৌন্দর্যের তুলনীয় বিচারে দ্বীপগুলো কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই এদের মূল বৈশিষ্ট্য। অপরূপ সৌন্দর্যের ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রকে বলা হয় ‘নেচার আইল্যান্ড অব দ্য ক্যারিবিয়ান’। এই দ্বীপরাষ্ট্রে ২ ও ৩ জুলাই দুটি টি-২০ খেলবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ। ম্যাচ দুটি খেলার জন্য মাহমুদুল্লাহ বাহিনী এখন ডোমিনিকায়। কিন্তু সেন্ট লুসিয়া থেকে যেভাবে ডোমিনিকা পৌঁছান ক্রিকেটাররা, সে যাত্রা ছিল বিভীষিকাময়, ভয়ংকর, ভয়াবহ ও দুঃস্বপ্নের।

দুই দ্বীপের দূরত্ব মাত্র ১৭৩ কিলোমিটার। বিমান যাত্রায় সর্বোচ্চ সময় লাগে ৩০-৩৫ মিনিট। টাইগার ক্রিকেটাররা বিমানে নয়, ডোমিনিকায় পা রাখেন ফেরিতে। যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে সাড়ে ৫ ঘণ্টার ফেরি ভ্রমণ করে সেন্ট লুসিয়া-মার্টিনিক হয়ে ডোমিনিকায় পৌঁছান মাহমুদুল্লাহরা, সারা জীবন এ ভ্রমণ দুঃস্বপ্ন হয়ে বেড়াবে তাদের! টি-২০ স্কোয়াডে নেই বলে দলের সঙ্গে যাননি ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সেন্ট লুসিয়া থেকে সরাসরি গায়ানা গেছেন। দুটি টি-২০ খেলে টাইগাররা উড়ে যাবে গায়ানা। সেখানে ৭ জুলাই শেষ টি-২০ এবং ১০, ১৩ ও ১৬ জুলাই তিন ওয়ানডে খেলবে।   

বিমানের ফ্লাইট থাকার পরও কেন ফেরি ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে? দুই দিন আগে যেখানে সাইক্লোনে উত্তাল ছিল আটলান্টিক, সেখানে সমুদ্রযাত্রার ব্যবস্থা রাখার কারণ ব্যাখ্যায় বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘যখন কোনো দল খেলতে যায় অন্য একটি দেশে, তখন স্বাগতিক দেশ অতিথি দলকে সব ধরনের সহায়তা দেয়। যেহেতু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড স্বাগতিক, তারা বিসিবিকে আগেই জানিয়েছিল ক্রুজ ভ্রমণে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকান যাওয়ার বিষয়টি। তারা এটাও নিশ্চিত করেছিল একই ক্রুজে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া ম্যাচ রেফারি, আম্পায়াররাও যাবেন। আমাদের বলার কিছু ছিল না।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ফেরি ভ্রমণের প্রস্তাব বিসিবি কেন মেনে নিয়েছে? যেখানে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের সমুদ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। বিসিবি সিইও এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিমানের ফ্লাইট যে নেই, এমন নয়। আমরা যোগাযোগ করেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে। তারা জানিয়েছে, আগে যেসব বিমান চলাচল করত, করোনাকালে সেসব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যেসব চলে, সেসব বিমান আকারে ছোট। একসঙ্গে সব ক্রিকেটার ও লাগেজ নেওয়া সম্ভব নয়।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড যে ব্যবস্থাই করুক, বিসিবির বাড়তি দায়িত্ব থাকা উচিত ছিল ক্রিকেট দল নিয়ে।

মাহমুদুল্লাহ বাহিনীর ডোমিনিকা যাওয়ার কথা ছিল দুই দিন আগে। কিন্তু সাইক্লোনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্ট্রিস ফেরি টার্মিনাল থেকে পার্লে এক্সপ্রেস ফেরিতে মাহমুদুল্লাহরা রওনা দেন মার্টিনেকের উদ্দেশে। সেন্ট লুসিয়া থেকে ফ্রেঞ্চ কলোনি মার্টিনেক হয়ে আরও কয়েকটি দ্বীপ পাড়ি দিয়ে ডোমিনিকা রুট। এ রুটে নিয়মিত যাতায়ত করেন পর্যটকরা। টাইগার ক্রিকেটাররা এই প্রথম পাড়ি দিলেন। এজন্য তারা ভীতও ছিলেন। যাত্রা শুরুর পর আটলান্টিকের সৌন্দর্যে মুগ্ধ  সবাই ছবি তুলছিলেন, গল্প করছিলেন। কিন্তু কিছু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ উত্তাল হলে, ভীত হয়ে পরেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে ডলফিন চ্যানেল পাড়ির সময় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরি যখন টালমাটাল, তখন ক্রিকেটারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, নুরুল হাসান সোহানরা ভীত হয়ে বমি করতে থাকেন। তবে সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহরা স্বাভাবিক ছিলেন। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ প্রশ্ন করেন লজিস্টিক কর্মকর্তা নাফিস ইকবালকে ‘যদি ক্রিকেটারদের কিছু হয়ে যায়, তাহলে দায়িত্ব নেবে কে?’ দেড় ঘণ্টার দুর্বিষহ যাত্রার পর ক্রিকেটাররা মার্টিনেকে পৌঁছে ফেরিতে উঠতে রাজি হননি। কিন্তু ফ্রেঞ্চ কলোনি বলে ফ্রান্সের ভিসা না থাকায় সেখানে বাড়তি সময় থেকে বিমানে যাওয়া সম্ভব হয়নি ক্রিকেটারদের, বলেন বিসিবি সিইও, ‘মার্টিনেক ফ্রেঞ্চ কলোনি। সেখানে অবস্থান করতে ফ্রান্সের ভিসা লাগে। তাই অল্প সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’

সর্বশেষ খবর