Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:১০
খুলে যাচ্ছে স্বপ্নের দুয়ার
যশোরে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক
সাইফুল ইসলাম, যশোর
খুলে যাচ্ছে স্বপ্নের দুয়ার
নির্মাণাধীন দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক —বাংলাদেশ প্রতিদিন

লক্ষ্য ছিল চলতি বছরের শেষে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জায়গা দেওয়া শুরু হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিয়মিত তদারকির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই পার্কটিতে উদ্যোক্তাদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আর এরই সঙ্গে খুলে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক অনন্য সম্ভাবনার দুয়ার।

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়মিত এই পার্কের নির্মাণকাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্কাইপির মাধ্যমে তিনি সরাসরি ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখছেন ও পরামর্শ দিচ্ছেন। সে কারণেই এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এবং অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক বলেন, পার্কের ১৫ তলাবিশিষ্ট এমটিবি (মাল্টি ট্যানেন্ট বিল্ডিং) ভবনের চারটি ফ্লোর উদ্যোক্তাদের ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যে পুরোপুরি উপযোগী করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের এসব ফ্লোর বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তাদের কাছ থেকে ৩৮টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জাপান, ভারত ছাড়াও বাংলাদেশের আইটি উদ্যোক্তারা রয়েছেন। দেশ-বিদেশের আরও অনেক উদ্যোক্তা এখানে জায়গা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও জানান তিনি। যশোর শহরের নাজির শংকরপুরে প্রায় সাড়ে ৯ একর জায়গার ওপর ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ স্বপ্নের এই সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৫ তলাবিশিষ্ট এমটিবি ভবন ছাড়াও থাকছে ১২ তলাবিশিষ্ট ডরমেটরি ভবন, অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টারের সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং। সব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প-প্রতিরোধক কম্পোজিট কাঠামোতে (স্টিল ও কংক্রিট)। এখানে থাকছে ফাইবার অপটিক কানেকটিভিটি আর ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন। আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য থাকছে দুই হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর। মার্চ মাসেই সাব-স্টেশন ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং তা কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারের ব্যাকআপ রাখার জন্য এ পার্কে স্থাপন করা হয়েছে ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টার। এটিরও নির্মাণকাজ শেষ এবং বর্তমানে কাজ করা উপযোগী। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে রাষ্ট্রের সব ডিজিটাল ডাটা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে রাখা হয়। কোনো দুর্যোগে যদি এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে দেশকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে। সে কারণেই এই ডাটা সেন্টারের একটি ব্যাকআপ যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রাখা হচ্ছে। কারণ যশোর তুলনামূলকভাবে দেশের সবচেয়ে কম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। বিশ্বের অনেক দেশেই ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টার নেই। এ ছাড়া দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা একটি ডাটা সেন্টারও করা হবে এখানে। ব্যাংকগুলোর সহযোগিতায় সরকার এটি করে দিচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলাকে টার্গেট করেই যশোরে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক করা হয়েছে। কম্পিউটার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, কল সেন্টার, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট— এই চারটি ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের আইটি শিল্পোদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। আর এই সুবাদেই এ অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে। তিনি বলেন, যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখান থেকে পাস করার পর শিক্ষার্থীরা এ পার্কে কাজ করতে পারবেন, উদ্যোক্তাও হতে পারবেন তারা।

এ ছাড়া এই পার্কে এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আইসিটির বিভিন্ন শাখার ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশে আইটি শিল্প তৈরি পোশাকশিল্পের বিকল্প হিসেবে বিকশিত হবে এবং সরকারের ‘ভিশন ২০২০-২১ : ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবে। ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে একটি বিশ্বমানের আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের পাঁচটি অংশের কাজ করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow