রমজানুল মোবারকের আজ অষ্টম দিবস। মুত্তাকি হওয়ার কর্মশালায় নিয়মিত আমি হাজির হচ্ছি তো! রহমত ও বরকতের সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্লেষণ করে আমি কতটা মুত্তাকি হতে পারলাম! তাকওয়ার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে। সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে মানুষ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন নর ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদের জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি এ জন্য যে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হবে। নিশ্চয়ই তোমাদের সবচেয়ে মুত্তাকি ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদার মাপকাঠি তার তাকওয়া। যার চরিত্রে তাকওয়ার মাত্রা যেমন, আল্লাহ তায়ালার কাছে তার মর্যাদা তেমন। কোরআন মজিদের শুরুতে বলা হয়েছে, এই কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই। (এই কিতাব) পথনির্দেশ মুত্তাকিদের জন্য, যারা অদৃশ্যে ইমান রাখে, সালাত কায়েম করে ও আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে। আর যারা ইমান রাখে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে ও আপনার আগে যা নাজিল করা হয়েছে তার প্রতি। আর তারা আখিরাতে বিশ্বাস রাখে। এখানে তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি মুত্তাকিদের মৌলিক গুণাবলী উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব একজন মুমিন বান্দার উচিত আল্লাহর কাছে মর্যাদা লাভের জন্য তাকওয়ার গুণ অর্জন ও তা উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। তাকওয়া শব্দের অর্থ সাবধানতা ও সংযম। মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার অর্থ। তবে মন্দ কাজ বর্জন যেমন জরুরি, তেমনি ভালো কাজগুলো করাও তাকওয়ার অন্তর্গত। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের সমষ্টিই তাকওয়া। সাধারণভাবে তাকওয়া শব্দের অর্থ করা হয় আল্লাহর ভয়। মহান রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন সবাইকে হাজির হতে হবে। সে দিন দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস ও ভয়ই মানুষকে সাবধানী ও সংযমী করে তোলে। তাকওয়ার মর্ম বর্ণনায় হজরত উবাই ইবনে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি উক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে তাকওয়ার মর্ম বর্ণনার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি কখনো কাঁটাঝোপের মধ্য দিয়ে পথ চলেছেন? সেখানে যেমন আপনাকে সব সময় সাবধানে নিজের শরীর ও কাপড় রক্ষা করে চলতে হয়, তাকওয়া ঠিক তেমনি, সাবধানী আচরণ ও জীবনযাপনের নাম। বস্তুত আল্লাহর কাছে বান্দার জবাবদিহিতার অনুভূতিই তাকওয়া। ইসলামী শরিয়তে বান্দার করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তেমনি এসবের গুরুত্ব ও মাত্রার পর্যায়ক্রম নির্ণীত আছে। করণীয়গুলোকে আবশ্যকতার মাত্রার পর্যায়ভেদ অনুযায়ী ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়। আর বর্জনীয়গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় হারাম, মাকরুহ তাহরিমি, মাকরুহ তানজিহি ইত্যাদি পরিভাষা। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের মাত্রা অনুযায়ী তাকওয়ার স্তর বিন্যস্ত করা হয়। মুসলিম মনীষীরা তাকওয়ার তিনটি স্তর বর্ণনা করেন প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা অবশ্য পালনীয় অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব, তা পালন করা এবং যা অবশ্য বর্জনীয় অর্থাৎ হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি, তা বর্জন করা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। তাকওয়ার ন্যূনতম পর্যায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন এবং ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করা। লেখক: বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। www.selimazadi.com
শিরোনাম
- বাংলাদেশ প্রতিদিনের আহত সাংবাদিক দুর্জয়ের খোঁজ নিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- রাকসু নির্বাচন ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন
- হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য উপহার পাঠালেন রুমিন ফারহানা
- চবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিবিরের বিক্ষোভ
- ছেলের সঙ্গে মারামারি গড়াল ডিএনএ পরীক্ষায়, জানলেন সন্তানদের বাবা নন তিনি
- সিলেটে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
- নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি
- মানুষের মতো স্বাদ নেয় ও মনে রাখে কৃত্রিম জিভ, তাক লাগালেন চীনা বিজ্ঞানীরা
- ইউক্রেনের সাবেক স্পিকারকে গুলি করে হত্যা
- মাকে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, ছেলে-বউসহ আটক ৫
- সালমানের ব্যাটে ৬ বলে ৬ ছক্কা, ১২ বলে ১১: শেষ ২ ওভারে উঠল ৭১ রান
- চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
- ইয়েমেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুফতা
- ভয়েস অব আমেরিকার পাঁচ শতাধিক সাংবাদিককে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন
- নেত্রকোনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৩
- সেলফির নেশায় মৃত্যু: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে
- উড্ডয়নের পরই ইঞ্জিনে আগুন, মাঝ-আকাশে বিমানে আতঙ্ক
- আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে
- ৯৯ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙল এশিয়া
- ফোরজিতে ন্যূনতম ডাউনলোড গতি ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ