লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনায় গোটা ভারতজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চীনা পণ্য বয়কটের দাবি। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনগুলো চীনা পণ্য আমদানি ও বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপে ভারতেরই আর্থিক ক্ষতি হতে পারে প্রায় ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চীনের সব ধরনের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। এতে দেশের ছোট-বড় ব্যবসাগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত প্রতিবছর প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর চীনা পণ্য বিক্রি করে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকেন। এ পণ্যের মধ্যে রয়েছে- খেলনা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিকস এবং গৃহস্থালির নানা দ্রব্য।
অল ইন্ডিয়া ব্যপার মন্ডল নামক ব্যবসায়ী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভি কে বনসল পিটিআইকে বলেন, “আমরা আমাদের সব সদস্যকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চীনা পণ্য মজুত এবং বিক্রি না করার পরামর্শ দিয়েছি। একই সঙ্গে সরকারকে অনুরোধ করেছি যেন তারা ই-কমার্স সংস্থাগুলোকেও চীনা পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার আদেশ দেয়।”
এছাড়াও কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন চীনা পণ্যের বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বয়কটের জন্য ৩ হাজারেরও বেশি চীনা পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ১৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্য আমদানি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ভারতীয় জনসাধারণের মধ্যে চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে আরও সচেতনতা গড়ে তুলতে বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি ও শচীন তেন্ডুলকরকে চীনা পণ্যের বিজ্ঞাপন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা