নেত্রকোনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মৌগাতি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপির সাবেক সভাপতি দুজাহান মিয়া (৫৫) এবং একই গ্রামের মোফাজ্জলের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৯)। আহতরা হলেন নিহত নুর মোহাম্মদের মা মনোয়ারা বেগম (৬০) ও চাচা রফিকুল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার, জমি-জমা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুজাহান, আলী আমজাদ ও রফিকুলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জামাটি গ্রামের ডাক্তার নকী হোসেনের বাড়ির সামনে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা দুজাহানকে এলোপাথারি কুপিয়ে হত্যা করে।
এরপর সঙ্গী মাতুর নেতৃত্বে দুজাহানের সমর্থকরা রফিকুলের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালায়। এতে রফিকুল, তার ভাতিজা নুর মোহাম্মদ ও নুর মোহাম্মদের মা মনোয়ারা গুরুতর আহত হন। পরে চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে নুর মোহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এর আগে দুজাহানের মরদেহও হাসপাতালে পৌঁছায়। মনোয়ারা ও রফিকুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, আলী আমজাদের কাছে টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দুজাহানকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মাতু বিভিন্ন মামলার আসামি এবং নুর মোহাম্মদ তার একটি মামলার সাক্ষী ছিলেন।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন নারীকে আটক করেছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কান্তি সরকার বলেন, “ঘটনার পরপরই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
বিডি প্রতিদিন/হিমেল