চীনের পূর্বাঞ্চলে এক ব্যক্তি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর দুই ছেলের কেউই আসলে তাঁর জৈবিক সন্তান নয়। ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তির নাম জিয়াং হংতাও। বড় ছেলে জিয়াং রুনঝে তাঁকে আক্রমণ করার পর পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, চীনের শানডং প্রদেশের বাসিন্দা জিয়াং হংতাও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি সাবেক স্ত্রীর কাছে ৩ লাখ ইয়েন (প্রায় ৪২ হাজার ডলার) ফেরতের দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সন্তানদের লালন-পালন ও পড়াশোনার জন্য এই অর্থ খরচ হয়েছিল।
জিয়াং ২০০২ সালে বিয়ে করেন। ২০০৪ সালে প্রথম ছেলে এবং ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ছেলে জন্ম নেয়। তবে স্ত্রীর ঘনঘন অনুপস্থিতি ও নানা সমস্যার কারণে ২০২২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তখন জিয়াংয়ের সব সম্পত্তি সাবেক স্ত্রীর হাতে চলে যায়। জিয়াংয়ের কাছে থেকে যায় কেবল একটি গাড়ি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি নতুন করে বিয়ে করেন। এরপর সাবেক স্ত্রী ও দুই ছেলে এসে সম্পত্তি দাবি করলে পারিবারিক কলহে বড় ছেলে রুনঝে তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে এবং চিৎকার করে বলে, ‘তুমি আমার বাবা নও।’ এতে সন্দেহ জাগে জিয়াংয়ের। পরে তিনি রুনঝের টুথব্রাশ সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে কোনো জৈব সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে ছোট ছেলের ডিএনএ পরীক্ষাতেও একই ফলাফল আসে।
জিয়াং দাবি করেন, বড় ছেলের বাবা তাঁর গ্রামের সচিব এবং ছোট ছেলের বাবা তাঁরই চাচাতো ভাই। এতে মর্মাহত হয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রাক্তন স্ত্রী আমাকে ভীষণ ক্ষতি করেছে।” জিয়াংয়ের বাবা-মাও বলেন, “যাদের আমরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে নাতি ভেবে লালন করেছি, তারা আসলে আমাদের রক্তের কেউ নয়।”
এ ঘটনায় জিয়াং আদালতে মানসিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ১ লাখ ইয়েন (প্রায় ১৪ হাজার ডলার) দাবি করেন। তবে বড় ছেলে রুনঝে দাবি তোলে যে, পরীক্ষার ফলাফলে জিয়াংয়ের নতুন স্ত্রী কারসাজি করেছেন। অন্যদিকে, জিয়াংয়ের প্রাক্তন স্ত্রী শুধু মানসিক ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলেও লালন-পালনের খরচ ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে আদালত নিশ্চিত করে যে, দুই ছেলের কেউই জিয়াংয়ের জৈব সন্তান নয়। এরপর জানা যায়, জিয়াংয়ের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীও জিয়াংয়ের প্রাক্তন স্ত্রী ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটিতে নতুন মোড় আসে ২৪ আগস্ট। এক ভিডিও বার্তায় রুনঝে জানায়, আদালত জিয়াংয়ের পক্ষেই রায় দিয়েছে। সে আরও জানায়, সে, তাঁর ভাই ও মা জিয়াংয়ের পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ভিডিওতে রুনঝে বলেন, সে জিয়াং ও তাঁর নতুন স্ত্রীকে শুভকামনা জানায় এবং আশা করে তাঁরা দাদু-দাদির ভালো যত্ন নেবেন।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে প্রকাশিত পোস্টগুলো দেখা হয়েছে ৩ কোটিরও বেশি বার। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “জিয়াং আসলেই ভুক্তভোগী। তিনি ২২ বছর ধরে দুই ছেলেকে লালন করেছেন, অথচ শেষ পর্যন্ত একজন তাঁর টাকাই চাইল।” আরেকজন লিখেছেন, “জিয়াং ন্যায়বিচার চাওয়ায় আমি তাঁকে সমর্থন করি। সবচেয়ে বেশি দায়ী প্রাক্তন স্ত্রীর অবিশ্বস্ততা।”
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
বিডি প্রতিদিন/আশিক