গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাসহ সার্বিক বিষয়ে বৈঠক করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার কারণে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল দুপুরে এই বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন। যুগ্ম কমিশনার থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। সিভিলে থাকা যে ব্যক্তি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সম্রাটকে মারধর করেছেন তাকে আটক করা হয়েছে কি না বা তার পরিচয় উদঘাটন হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের সব ইউনিটে বিশেষ করে ক্রাইম ডিভিশনে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে আসে বৈঠকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, আগামী দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে। সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে ডিএমপির সদস্যদের। ভবিষ্যতে কোনো ঘটনার মোকাবিলায় পুলিশ ফোর্সের ভিতর যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী না ঢুকতে পারে সে বিষয়েও আরও সতর্ক থাকার কথা বলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ দলটির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। বর্তমানে নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি। গণঅধিকার পরিষদের ওপর লাঠিচার্জের সময় দেখা যায়, পুলিশ সেনাবাহিনীর সামনে লাল পোলো টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি ছাত্রনেতা সম্রাটকে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করছেন। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করলেও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এখনো তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে নুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলায় নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। চোখের ওপরে আঘাত রয়েছে। মাথায় সামান্য রক্তক্ষরণ হয়েছে। রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বর্তমান অবস্থা স্টেবল (স্থিতিশীল) রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলছি না। তার মস্তিষ্কে যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটা ওষুধে ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’