শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:৩০
আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:৩৫
প্রিন্ট করুন printer

বাংলাদেশের উন্নতি দেখিয়া আঞ্চলিক মহাশক্তিরাও ঈর্ষান্বিত: আনন্দবাজার

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের উন্নতি দেখিয়া আঞ্চলিক মহাশক্তিরাও ঈর্ষান্বিত: আনন্দবাজার

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অকুণ্ঠ প্রশংসা করে আজ সোমবার সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা। সম্পাদকীয়টি হুবুহু তুলে ধরা হলো: 

নবজাত দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান যখন ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার মাটিতে অবতরণ করিয়া ময়দানে বক্তৃতা শুরু করিলেন, ততক্ষণে সমগ্র কলিকাতা মহানগরই কলরোল-উচ্ছ্বসিত ময়দানে পরিণত হইয়াছিল। বঙ্গবন্ধু সে দিন কলিকাতার বুকে দাঁড়াইয়া কেবল উদাত্ত কণ্ঠে বিজয়বার্তা ঘোষণা করেন নাই, বিপন্ন এবং নিঃস্ব একটি নবজাত রাষ্ট্রের তরফে বাঙালির শুভেচ্ছাও প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ঊনপঞ্চাশ বৎসর অতিক্রান্ত হইয়াছে, এই ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চাশ বৎসরে পড়িল সেই দিনটির ইতিহাস। সে দিনের সদ্যোজাত ক্ষুদ্র দেশ এখন মহাগৌরবে উপমহাদেশীয় অঞ্চলের মুখোজ্জ্বল করিতে ব্যস্ত। বাংলাদেশের উন্নতি দেখিয়া এই উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ, এমনকি তথাকথিত আঞ্চলিক মহাশক্তিরাও আজ ঈর্ষান্বিত। ঢাকার বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার এখন ইসলামাবাদের তিনগুণ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানকে সুইডেন বানাইবেন বলিলে উপদেষ্টারা বলেন, আগে তো বাংলাদেশের সমকক্ষ হউন, তাহার পর সুইডেন। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ২০২০ সালের হিসাব— জনপ্রতি জিডিপি-র দিক দিয়া বাংলাদেশ ভারতকে পিছনে ফেলিয়াছে। কোভিড-পূর্ব কালেই দুই দেশ এই স্থানে আসিয়াছিল। অতঃপর কোভিড-১৯ ভারতীয় অর্থনীতিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অপেক্ষা বিপন্নতর করিয়াছে। যেহেতু যে কোনও যাত্রারই চরিত্র নির্ধারিত হয় তাহার সূচনাবিন্দুর উপর নির্ভর করিয়া: ১৯৭২ সালে ভারত যে অবস্থায় ছিল, আর নতুন বাংলাদেশ (যাহাকে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঙ্গার ‘বাসকেট কেস’ বলিয়া অভিহিত করিয়াছিলেন) যেখানে ছিল, তাহা মাথায় রাখিলেই বোঝা যায়, কে কতখানি আগাইয়াছে বা পিছাইয়াছে।

আইএমএফ-এর হিসাব আন্তর্জাতিক গোচরে আসিবার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন বিজেপি আইটি সেল বুঝাইতে শুরু করিয়াছে, কেন বাংলাদেশ ও ভারতের এই তুলনা আসলে বাস্তবের যথার্থ প্রতিফলন নহে। আইটি সেল-এর যুক্তিতর্কের ধরনধারণের সহিত পরিচিতরাই বুঝিবেন, কী ধরনের মারপ্যাঁচ এই বক্তব্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে। বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প সেক্টরই তাহাকে কোভিড-সঙ্কটে বাঁচাইয়াছে, এমন যুক্তিও সেই মারপ্যাঁচে স্থান লইয়াছে— যদিও বোঝা দুষ্কর, ভারতকে সেই শিল্পে বা সমস্তরের কোনও শিল্পে মনোনিবেশ করিতে কে কবে বাধা দিতেছিল। আরও একটি কথা। উন্নয়ন বুঝিবার জন্য যে জিডিপি-ই একমাত্র হিসাবের খাতা নহে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও জীবনমানের পরিস্থিতিও যে তাহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূচক, এমন কথা অমর্ত্য সেন প্রমুখ অর্থনীতিবিদ বারংবার বলিয়াছেন। দেখাইয়াছেন, কীভাবে যে ভারত এক কালে মানব-উন্নয়ন সূচকে উপমহাদেশীয় তালিকার একেবারে উপরের দিকে ছিল, সে ক্রমে তালিকার নিম্নবর্গে স্থান লইয়াছে। ২০২০ সালের শেষে, নাগরিকের গড় আয়ু ভারতের অপেক্ষা বাংলাদেশে তিন বৎসর বেশি, শিশুমৃত্যুর হার ভারতের অপেক্ষা কম (হাজারে ভারত ২৮, বাংলাদেশে ২৫), সাক্ষরতায় দুই দেশ পাশাপাশি, শহর-জনসংখ্যার হারে বাংলাদেশ (৩৭ শতাংশ) ও ভারত (৩৪ শতাংশ) এবং— নারী কর্মসক্ষমতার দিক দিয়া বাংলাদেশ প্রভূত আগাইয়া (ভারত ২০ শতাংশ, বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ)। কে কোন দিকে অনুপ্রবেশ করিবে, তাহাই এখন প্রশ্ন। এই সমগ্র চিত্রের সমস্ত ‘দায়িত্ব’ যে দিল্লির বর্তমান শাসক দলকেই লইতে হইবে, এমন নহে, যদিও গত কয়েক বৎসরে পরিস্থিতি উপর্যুপরি খারাপ হইয়াছে। কিন্তু বর্তমান শাসকের ‘ঠাকুরঘরে কে’ ভাবটিই সাক্ষাৎ প্রমাণ, তাহারা নিজেরাই নিজেদের ‘অপরাধ’-এর ভাগিদার ভাবে। অথচ বাংলাদেশের সমৃদ্ধির মতো ঘটনাকে আইটি সেল-এর অপপ্রচারের হাতে ছাড়িয়া না দিয়া দিল্লির উচিত ছিল, অর্থনীতিবিদ ও সমাজতাত্ত্বিকদের সাহায্য লইয়া সেই দেশ হইতে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করিবার।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৭:৫৯
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:০৮
প্রিন্ট করুন printer

খবর গার্ডিয়ানের

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক, ১০১৮ জনই বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক, ১০১৮ জনই বাংলাদেশি

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বের কাজ করতে গিয়ে গত ১০ বছরে (২০১০-২০২০) প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি বিদেশি শ্রমিক। এর মধ্যে ১০১৮ জন বাংলাদেশি শ্রমিকও রয়েছেন। 

আজ মঙ্গলবার এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। শুধু বাংলাদেশের শ্রমিকই নন,  এই বিশ্বকাপ আয়োজন সফল করে তোলার পেছনে কাজ করতে গিয়ে ভারতের ২ হাজার ৭১১ জন, নেপালের ১ হাজার ৬৪১ জন, পাকিস্তানের ৮২৪ জন এবং শ্রীলঙ্কার ৫৫৭ জন শ্রমিক মারা গেছেন।

কেনিয়া ও ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশের শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্য এতে অন্তুর্ভূক্ত করা হয়নি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কাতারে বিদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্যও এতে যোগ করা হয়নি। তাই হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বড় বলেও জানিয়েছে গার্ডিয়ান। 

সরকারি তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশ; বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ১২ জন করে শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বের কাজ করতে গিয়ে।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বের কাজ শুরু হয়। প্রস্তুতিপর্বের অংশ হিসেবে ৭টি স্টেডিয়াম, নতুন সড়ক, হোটেল, পরিবহন ব্যবস্থা, নতুন বিমানবন্দর এবং নতুন একটি শহর নির্মাণসহ বড় বড় প্রজেক্টের কাজ শুরু করে কাতার। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।  

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:৩০
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৬
প্রিন্ট করুন printer

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন

‘অক্সফোর্ডের টিকা বয়স্কদের কাজে আসে না’

অনলাইন ডেস্ক

‘অক্সফোর্ডের টিকা বয়স্কদের কাজে আসে না’
প্রতীকী ছবি

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়ে ইউরোপে চলছে বিতর্ক। জার্মান মিডিয়ার রিপোর্ট, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে এই টিকা মাত্র ৮ শতাংশ কার্যকর।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা অবশ্য এই রিপোর্ট উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। তাদের দাবি, গত নভেম্বরে তারা সব তথ্য দ্য ল্যানসেটে প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর একশ শতাংশ ক্ষেত্রে বয়স্কদের দেহেও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। 

অ্যাস্ট্রাজেনেকার দাবি, সংবাদপত্রের রিপোর্ট ভুল। ডয়েচে ভেলেকে লিখিতভাবে সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন কমিটি এবং জাতীয় মেডিসিন রেগুলেটার বয়স্কদের এই ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

জার্মানির দু’টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মাত্র ৮ শতাংশ। দু’টি সংবাদপত্রই জার্মান সরকারের নামবিহীন সূত্রকে উদ্ধৃত করে খবরটা করেছে। হ্যান্ডলসব্যাট-এর রিপোর্ট বলেছে, বয়স্কদের মধ্যে এই ভ্যাকসিন ৮ শতাংশ কার্যকর। আর বিল্ডের রিপোর্ট জানাচ্ছে, তা ১০ শতাংশেরও কম কার্যকর।

দু’টি সংবাদপত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জার্মান সরকারের পরিকল্পনা ছিল, যারা সেন্টারে আসতে পারবেন না, তাদের বাড়িতে গিয়ে এই ভ্যাকসিন দেয়া। কারণ, এই ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া ও রাখা সহজ। ফাইজার-বায়োনটেকের মতো মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে রাখতে হয় না। জার্মানির সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইউরোপের মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) বয়স্কদের উপর এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি সম্ভবত দেবে না।

এই রিপোর্ট এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন অ্যাস্ট্রাজেনেকা ইউরোপে প্রতিশ্রুতি মতো ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছে না। তারা অনেক কম ভ্যাকসিন দিয়েছে ইউরোপকে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ইইউ’র হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটির কর্তারা। কবে তারা প্রতিশ্রুতিমতো ভ্যাকসিন দিতে পারবে তা নিয়েই আলোচনা হবে।

গত মাসে অ্যাস্ট্রাজেনেকা তাদের ভ্যাকসিন ইউরোপে চালুর অনুমোদন চেয়েছিল। জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে সম্ভবত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইএমএ।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:১২
প্রিন্ট করুন printer

‘ভারত থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই টিকা পাবে বাংলাদেশ’

অনলাইন ডেস্ক

‘ভারত থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই টিকা পাবে বাংলাদেশ’

করোনাভাইরাসের টিকা বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছে ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “টিকা রফতানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গণমাধ্যমের খবরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে ভারত। ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন- ভারত গোটা মানবজাতির জন্যই টিকা তৈরি করছে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতি।”

এতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশকেও টিকা সরবরাহে আমাদের নেতৃবন্দ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।”

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১৩
প্রিন্ট করুন printer

খবর বিবিসি বাংলার

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিয়াল এতোটা হিংস্র হয়ে উঠেছে কেন?

অনলাইন ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিয়াল এতোটা হিংস্র হয়ে উঠেছে কেন?
আশুগঞ্জে শিয়ালের আক্রমণে আহত ২২ (ডানে)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় শিয়ালের আক্রমণে ২২জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী একটি শিয়ালকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী রিপন আহমেদ জানান, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে দুটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে ঢুকে একটি শিশুকে কামড়ে দেয়।

পরে শিয়াল দুটি হিংস্র হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে নারী ও শিশুসহ ২২জনকে মানুষকে কামড়ে আহত করে। এর মধ্যে ছয় দিন বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

সবাই আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে লোকজন জড়ো হয়ে একটি শিয়ালকে জাপটে ধরে। ধস্তাধস্তি চলাকালে শিয়ালটি বাকিদের কামড়ে দেয়। পরে সবাই মিলে ওই শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। আহতদের সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে আহতদের সবাইকে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেয়া হয়।

বাংলাদেশে শিয়ালের হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের কামড়ে অন্তত ২৭ জন পথচারী আহত হওয়ার ঘটনা। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তার আগে নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১০০ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে।

শিয়ালের এই উৎপাতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

তবে শেয়াল কোন হিংস্র প্রাণী নয়, বরং নিশাচর বন্য এই প্রাণীটি লোকালয় থেকে দূরেই থাকে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

শুধুমাত্র খাবারের অভাব দেখা দিলেই সন্ধ্যা বা রাতের বেলা লোকালয়ে এদের বিচরণ করতে দেখা যায়। বনে খাবার না পেলে লোকালয়ে হানা দিয়ে হাঁস-মুরগি ধরে নেয়।

আত্মরক্ষা ছাড়া শিয়াল কোন মানুষের ওপর হামলা চালায় না, অবশ্য জলাতঙ্ক রোগ হলে এদের আচরণ কিছুটা বেপরোয়া হয়ে যায় বলে জানান মি. ইসলাম।

আর এই সময়েই মানুষের হাতে এই প্রাণীটির মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শেয়ালই পাতিশিয়াল ও ছোট আকারের খেঁকশিয়াল প্রজাতির, যা দেখতে অনেকটা দেশি কুকুরের মতো, গায়ের লোম বাদামি এবং লেজ কালো।

ক্যানিডি পরিবারের স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

কিন্তু নির্বিচারে গাছপালা ঝোপঝাড় কাটার পাশাপাশি গর্ত ভরাট করে ফেলায় অন্য সব প্রাণীর মতো শিয়ালের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মি. ইসলাম।

তিনি বলেন, "শিয়ালের বাঁচার উপযুক্ত পরিবেশ যদি থাকতো, তাহলে সে লোকালয়ে আসতো না। কারণ মানুষ তার খাবার নয়। শিয়াল বরং ইঁদুর, পোকামাকড়, মৃত প্রাণী, পচা-গলা এক কথায় সব ধরণের খাবার খেয়ে পরিবেশকে ভালো রাখে। আর এই প্রাণীটি রোগ ছড়ায় না। তাই এই পরিবেশে ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র রক্ষায় শিয়াল অনেক প্রয়োজন।"

এছাড়া, ইঁদুর-পোকামাকড় কমে যাওয়ায় শিয়ালের লোকালয়ে হানা দেয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান।

"এখন আমাদের পরিবেশে ইঁদুর, পোকামাকড় কমে গেছে। খাবারের অভাবেই তারা লোকালয়ে আসে। মানুষ এদের দেখে ভয় পায়, তাড়া করে। মানুষের ভয় দেখে তারাও আতঙ্কিত হয়ে যায় যা এই হিংস্রতাকে উস্কে দিতে পারে। কিন্তু শিয়াল হিংস্র নয়।"

এক্ষেত্রে এই প্রাণীগুলোর উপযুক্ত পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি গ্রামবাসীকে সচেতন করে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:১৭
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:২৮
প্রিন্ট করুন printer

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীর লিভ টুগেদার, অতঃপর পচাগলা লাশ উদ্ধার; দাবি পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীর লিভ টুগেদার, অতঃপর পচাগলা লাশ উদ্ধার; দাবি পুলিশের
লিপি সাগর শেখ ওরফে রিনা শেখ। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মুম্বাইয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে বাংলাদেশি এক তরুণীর পচেগলে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তার নাম লিপি সাগর শেখ ওরফে রিনা শেখ।

হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পর লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, রিনা তার প্রেমিকের সঙ্গে টুগেদার করছিলেন। তিনিও বাংলাদেশি। রিনাকে হত্যার পর লাশ বাসার ভিতর রেখে বাইরে থেকে তালা আটকে দেয় ওই প্রেমিক। অবশ্য, পুলিশ বাংলাদেশি ওই প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে। খবর মুম্বাই মিরর, মিড-ডেদ্য হোম নিউজের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিনা ও তার প্রেমিক যুবক (নাম জানা যায়নি) দু’জনই ছিলেন অবৈধ অভিবাসী। কিন্তু অন্য পুরুষের সঙ্গে রিনার সম্পর্ক থাকার সন্দেহে তার প্রেমিক তাকে হত্যা করে।

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে নাভি মুম্বাইয়ে। সেখানকার কালামবোলি এলাকায় রিনা অন্য দুই বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সঙ্কটে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় অন্য দুই নারী বাংলাদেশে চলে আসেন। তারা নাভি মুম্বাইয়ে সেবাখাতে কাজ করতেন। তারা দেশে ফিরে আসার পর রিনা ও তার প্রেমিক শুরু করেন লিভ টুগেদার। একই বাসায়, একই ছাদের নিচে বিবাহ ছাড়াই বসবাস শুরু করেন রিনা ও তার প্রেমিক। সম্প্রতি বাংলাদেশি ওই দুই নারী আবার মুম্বাই ফিরে যান নতুন কাজ পাওয়ার আশায়। তারা বাসায় ফিরেই দেখতে পান দরজার বাইরে থেকে তালা দেওয়া। রিনাকে ফোন করেন। কিন্তু তার ফোন তখন বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় তারা যোগাযোগ করেন বাড়ির মালিকের সঙ্গে। তার কাছে চাবি চান। কিন্তু রিনা শেখ সেখানে বসবাস করছিলেন বলে ওই বাসার চাবি বাড়িওয়ালার কাছে ছিল না। এ অবস্থায় তারা বাড়িটির ব্রোকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কাছে দরজা খোলার বিকল্প চাবি ছিল। ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয় পুলিশে। পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে দেখতে পায় রিনা শেখের অর্ধগলিত লাশ।

অবশ্য পুলিশ ওই প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রিনার সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাবাসাবাদে তিনি জানান- রিনা প্রেমের নামে তার সঙ্গে প্রতারণা করছিল। তার অন্য একটি সম্পর্ক ছিল। তাই রাগে ক্ষোভে তাকে গলা টিপে ধরে হত্যা করে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

এদিকে, অন্য দুই নারী অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করায় কারণে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর