শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:২৩

করোনা: চট্টগ্রামে আর্থিক সংকটে ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

করোনা: চট্টগ্রামে আর্থিক সংকটে ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরেই চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেজি স্কুলগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘদিন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবারের খরচ যোগার করতে যেমনি কষ্ট হচ্ছেন, ঠিক তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমিদারের ঘর ভাড়া মওকুপ না করায় হয়রানীসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

এ অবস্থায় কেজি স্কুলসহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীরা নানাভাবে ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে সরকারসহ দায়িত্বশীলদের কাছে ঋণ সুবিধাসহ নানা সহযোগিতার আহবান জানান কেজি স্কুল এসোসিয়েশন ও শিক্ষকবৃন্দরা।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। মার্চ থেকে টানা ৭ মাস ব্যক্তি মালিকানাধীন কেজি স্কুলসহ বেসরকারি ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠার বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন ভাতা পেলেও কেজি স্কুলগুলোর ১০ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও দেড় লক্ষ কর্মচারীর অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবন যাপনের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কেউ কেউ আর্থিক সংকটে শহর ছেড়ে গ্রামেও চলে গেছেন। এ দীর্ঘ ছুটিতে টিউশন ফিস নির্ভর এসব  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এক নিদারুণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে উঠেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে ও প্লে শ্রেণী থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধের সময়ও সরকারের সাথে সংগতিতে অনলাইনের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। 

এসব প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ ভাড়াবাড়িতে এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের উপর নির্ভরশীল। মাসিক আয়ের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ৪০ ভাগ এবং ২০ ভাগ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয়ে থাকে ও সরকার কিংবা অন্য কোনো সংস্থার কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা এসব প্রতিষ্ঠান পায়না। 

এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা স্বল্প বেতন ও প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। এতে বর্তমান সময়ে শিক্ষক কর্মচারীরা না পাচ্ছেন স্কুলের বেতন, না পাচ্ছেন টিউশনির বেতন। এ অর্থ সংকটে পড়েছে ১০-১২ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীর, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ৬,৫০০০ বেসরকারি স্কুল ও চট্টগ্রাম শহর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা সদরে অবস্থিত ১,৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৫০,০০০ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রিডার্স স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও সংগঠক মঈনুদ্দীন কাদের লাভলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চট্টগ্রামের কেজি স্কুলগুলোর বর্তমানে করুন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সকল পেশায় প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বাড়ি ভাড়াসহ নানা খরচ বন্ধ নেই। 

বেসরকারি শিক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য এখনও কোনো সরকারি ঘোষণাও আসেনি। তবে মানবতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের পাশে ছিলেন সবসময়। করোনার প্রভাবে কেজি স্কুলগুলোর পাশে মানবিক সৃষ্টি কোণ থেকে পাশে পেলে শত শত শিক্ষক নতুন করে জীবন যাপন শুরু করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

মুরাদপুর লাইমলাইট গ্রামার স্কুলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. খুরশিদ আলম বলেন, এ স্কুলের টিউশন ফি হচ্ছে একমাত্র আয়ের উৎস। স্কুলের বাড়িভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়। কিন্তু মাসের পর মাস বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছিনা, ঘরভাড়াও দেয়া যাচ্ছে না।

কিন্ডারগার্টেন এডুকেশন এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে বিশেষ নজর দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে আবেদন করেছি। হাটহাজারী এনায়েতপুর কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ সৈয়দ হাফেজ আহমেদ বলেন, মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থায় কিন্ডারগার্টেন গুলো বড় ভূমিকা রাখলেও মহামারী করোনার কারণে এ ক্ষতি পোষানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর