Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৩

পদে পদে হয়রানি আমিরাত বাংলাদেশ দূতাবাসে

কোনো কাজ হয় না দালাল ছাড়া

মুহাম্মদ সেলিম, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরে

পদে পদে হয়রানি আমিরাত বাংলাদেশ দূতাবাসে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ের একটি বেসরকারি কোম্পানির শ্রমিক নুরুল ইসলাম। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তার পাসপোর্টের সমস্যা দেখা দিলে তিনি সেটি সংশোধনের জন্য যান দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে। কিন্তু কনস্যুলেট অফিসের কেউ তার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেননি। উল্টো কনস্যুলেট অফিসে কয়েকবার গিয়ে হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ‘আউট পাস’ নিয়ে আমিরাত ছাড়তে হচ্ছে নুরুল ইসলামকে। শুধু নুরুল ইসলাম নন, একইভাবে পদে পদে হয়রানির শিকার হন আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট অফিসে সেবা নিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের হয়রানির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসে গিয়ে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হন তা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট অফিস ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকটি দালাল চক্র। এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন দূতাবাস অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা- কর্মচারী। এ চক্রের বাইরে গিয়ে দূতাবাসে কোনো প্রবাসী সেবা নিতে গেলে জুটে নানা হয়রানি। তবে, দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন, আমোক্তারনামা, ডেথ ক্লিয়ারেন্স কিংবা অন্য কোনো সেবা নিতে গেলে চিত্র থাকে একেবারে ভিন্ন। দালালদের মাধ্যমে এসব সেবা নিতে গেলে সরকারি ফির বাইরে দিতে হয় কমপক্ষে তিনশ দিরহাম (বাংলাদেশি টাকা প্রায় ৭ হাজার টাকা)। যা সবার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না।

দুবাই কনস্যুলেট অফিসে গিয়ে বার বার হয়রানির শিকার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পাসপোর্টের সমস্যা সমাধানের জন্য ছয় বার দুবাই কনস্যুলেট অফিসে গিয়েছি। তারা আমার সমস্যার সমাধান না করে উল্টো হয়রানি করেছে। কনস্যুলেট অফিস সমস্যা সমাধান না করায় এখন বাধ্য হয়ে আমিরাত ছাড়তে হচ্ছে আমাকে।’ বেলাল উদ্দিন নামে এক দুবাই প্রবাসী ব্যবসায়ী বলেন, ‘দূতাবাসে কেউ সেবা নিতে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ দেখে মনে হয় প্রবাসীরা বড় অপরাধী। তারা সেবা নিতে গিয়েই আরও বড় অপরাধ করেছে। তাদের আচরণ দেখে মনে হয় দূতাবাসে কোনো সভ্য কর্মকর্তা চাকরি করেন না।’ রাস আল খাইমার বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা আবু মুছা বলেন, ‘প্রবাসীরা দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেট অফিসে গেলে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রচণ্ড গরমে নেই বসার ব্যবস্থা। অথচ অন্যান্য দেশের দূতাবাসের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।’ শারজাহর বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মোবাচ্ছের শাহ বলেন, ‘দূতাবাসে যারা চাকরি করেন তাদের সিংহভাগই রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ পেয়েছে। যার কারণে তারা প্রবাসীদের পাত্তা দেন না। তাই দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো আচরণ করেন।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর