শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:০২

বগুড়ায় বিমান যাবে কবে?

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় বিমান যাবে কবে?

বগুড়ায় বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শুরুর ২৫ বছরেও পূর্ণতা পায়নি। দীর্ঘ সময়ে কয়েকটি সরকারের পরিবর্তন হলেও আকাশপথের সুবিধা ভোগ করতে পারেননি বগুড়াবাসী। দিন দিন উত্তরের জেলাগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর চালুর দাবি জোরালো হয়ে উঠলেও আশার আলো দেখেননি। এদিকে সড়কপথে যানজটের কারণে দুর্ভোগের শেষ নেই যাত্রীদের। চার ঘণ্টার পথ যেতে হয় আট ঘণ্টায়। আর বিমানবন্দর চালু হলে মাত্র ৪০ মিনিটে ঢাকায় যেতে পারবেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা।  জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রথমে এ বিমানবন্দরটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০০০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হয়। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি টাকা। ২০০১ সালের শুরুতে বগুড়ার আকাশে বিমান উড়বে বলে তখন আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলাবাসী। বিমান উড়বে উড়বে করেও আর ওড়েনি। বগুড়াবাসীর বহু আশার বিমানবন্দরও আর চালু হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে লোকসানের আশঙ্কায় সরকারিভাবে বিমান সার্ভিস চালু করা হয়নি। সম্প্রতি বগুড়া বিমানবন্দর চালুর দাবি জোরালো হলে বাংলাদশ বিমানবাহিনী সম্ভাব্যতা যাচাই করে। এরপর এ-সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট দেওয়া হয় সরকারকে। ওই রিপোর্টে কী বলা হয়েছে তা না জানা গেলেও বগুড়াবাসী বগুড়ার বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে আড়াই শতাধিক বাস চলাচল করে থাকে। এসব বাসের মধ্যে অধিকাংশ বাসের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। প্রতিদিন দুই সহস্র যাত্রী বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকেন। একসঙ্গে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে মহাসড়কে যানজটে পড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তখন বগুড়া থেকে চার ঘণ্টার পরিবর্তে আট ঘণ্টায় আবার কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি সময়ে গন্তব্যে যেতে হয়। এ ছাড়া আরও কিছু বাস লোকালভাবে ঢাকামুখী হয়ে থাকে। বিশেষ ছুটি থাকলে এসব বাসে এতটাই ভিড় হয় যে, টিকিট ও বাস সংকটে ভোগেন যাত্রীরা। দুই ঈদের সময় বগুড়ায় বাসের প্রচুর চাহিদা থাকে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ের সঙ্গে আরও তিন হাজার ফুট দৈর্ঘ্যরে রানওয়ে নির্মাণ, তেলের রিজার্ভার নির্মাণ, যাত্রী ও মালামাল হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য আরও প্রায় ১০০ একর জমি দরকার। সরেজমিন সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এই ভূমির মধ্যে রয়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল ও মসজিদ। তবে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এখনো কোনো চিঠি পায়নি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণের নির্দেশনা বা অনুমতি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানান, বগুড়ায় বিমানবন্দর চালু করার বিষয়ে কোনো সুখবর নেই। সুখবর পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর