শিরোনাম
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

নদী খননের মাটি অবাধে বিক্রি

লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা

নাটোর প্রতিনিধি

নদী খননের মাটি অবাধে বিক্রি

এক্সকেভেটর দিয়ে ট্রাকে তোলা হচ্ছে মাটি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

নাটোরের বড়াইগ্রামে নদী খনন করা মাটি বিক্রি চলছে অবাধে। বড়াল নদীর নটাবাড়িয়া অংশে প্রকাশ্যে শ শ ট্রাক্টর মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রভাবশালীরা এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাটি বিক্রেতাদের দাবি, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই তারা এ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন। জানা যায়, ২০২১ সালে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বড়াল নদী খনন করা হয়। সে সময় মাটি খননের পর মাটি নদীর দুই পাড়সহ পাশর্বর্তী ব্যক্তি মালিকানা জমি মিলিয়ে প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট উঁচু করে রাখা হয়। এরপর জমির মালিকরা উঁচু মাটির উপরেই কলাবাগানসহ বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন। নিয়মানুযায়ী এসব মাটি কোনো ব্যক্তির বিক্রির সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজন এসব মাটি গাড়ি প্রতি ১০০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত দুটি এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে এসব মাটি কেটে প্রায় ২০টি ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি রাতে ২০০-২২৫ গাড়ি মাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এভাবে মাটি বিক্রি করে এ চক্রটি দিনে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে মাটি বোঝাই শত শত ট্রাক্টর চলাচলে রাস্তাঘাটও নষ্ট হচ্ছে। সারারাত ভেকু ও ট্রাক্টরের চলাচলের শব্দে স্থানীয়দের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অন্যদিকে, মাটি কাটার আগে তারা স্থানীয় কৃষকদের রোপণ করা ফলবান কলা গাছসহ অন্যান্য গাছপালা নির্বিচারে কেটে ফেলায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর পাড়ে সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায় দুটি এক্সকেভেটর দাঁড় করানো। অন্ধকার নেমে এলেই তা দিয়ে মাটি কাটা শুরু হবে। এরই মধ্যে মাটিখেকোরা বড়াল নদীর ব্রিজ থেকে জোয়াড়ী বাজারের দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার মাটি কেটে বিক্রি করেছেন। সেখানে মাটি বিক্রির দায়িত্বে থাকা আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়েই আমরা মাটি বিক্রি করছি। নদী খননের মাটি বিক্রি করার এখতিয়ার উনাদের আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জোয়াড়ী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক ও শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি গাড়ি মাটি ১৩০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাড়ির পাশেই নদী, অথচ এ মাটি আমাদের নগদ টাকায় কিনে নিতে হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে মাটি বিক্রির কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা এরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান, ‘আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলে। এসব ট্রাক্টরের শব্দে না পারছি পড়তে, না পারছি ঘুমাতে।’

মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত এক্সকেভেটর মালিক পরিচয় দেওয়া উপজেলার চকপাড়া গ্রামের বাবু জানান, ডিসি-ইউএনও, ওসি সবার পারমিশন নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। বিষয়টি সবাই জানে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। নদী খননের মাটি কোনো ব্যক্তিকে বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সর্বশেষ খবর