বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তানিয়া আকতার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত তানিয়া আকতার বগুড়ার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সাইন্স (ডিপ্লোমা) কোর্সের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার সকালে পুলিশ খবর পেয়ে পৌরশহরের খন্দকারপাড়া জনৈক ব্যক্তির ভাড়া বাসা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলেই নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তানিয়া নন্দীগ্রাম উপজেলা পিংহাজারকি গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে ও মেহেদী হাসান শামীমের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার বছর আগে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ রহমান নগরের ফজলুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান শামীমের সঙ্গে তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। প্রায় ৬ মাস ধরে শেরপুর পৌরশহরের খন্দকারপাড়ায় জনৈক ব্যক্তির বাসা ভাড়া নিয়ে তানিয়া স্বামী ও তার বাবাকে নিয়ে বসবাস করতেন। এদিকে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিলো না। কারণ স্বামী শামীম মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রায়ই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডতা হতো। এ নিয়ে শামীম স্ত্রীকে মারধর করতো।
তারা আরও জানান, ঘটনার একদিন আগেও মাদক কেনার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। স্বামী তখন বাসা থেকে বের হয়ে চলে যায়। মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে রোববার দিবাগত রাতের কোন এক সময় দরজা-জানালা বন্ধ করে নিজ ঘরের শয়ন কক্ষে সেলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরদিন সোমবার সকালে বাবা মেয়েকে বারবার ডাকলেও ঘর থেকে কোন সাড়া আসে না। এসময় প্রতিবেশীরা চলে আসে। তারাও ডাকাডাকি করে। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়া মেলে না। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তানিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
বগুড়ার শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেয়েটি ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে একাই ছিলো। তাই স্বভাবতই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর