ভিয়েতনামে প্রায় ১২ হাজার বছর আগের এক মানুষের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই কঙ্কাল থেকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো মানব মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পাওয়া গেছে। মৃত ব্যক্তি ছিলেন প্রায় ৩৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ।
বিজ্ঞানীরা জানান, তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি কোয়ার্টজ পাথরের তৈরি ধারালো অস্ত্র তার গলায় ঢুকে হাড় ভেঙে দিয়েছিল। তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মারা যাননি। ঘাড়ের হাড়ে টিস্যু বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন সংক্রমণ চলার ইঙ্গিত দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক মাস ভোগার পর তিনি মারা যান এবং তাকে একটি গুহায় কবর দেয়া হয়।
কঙ্কালটি ভিয়েতনামের থুং বিন গুহা থেকে উদ্ধার করা হয়। এটি বর্তমানে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ট্রাং আন ল্যান্ডস্কেপ কমপ্লেক্সে অবস্থিত। খননকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই কঙ্কালের খুলি চূর্ণবিচূর্ণ ছিল। তবে দাঁত ও শরীরের অন্যান্য অংশের টুকরো মিলিয়ে পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে।
পাশের কাঠকয়লা পরীক্ষা করে বয়স ধরা হয় ১২ থেকে ১২.৫ হাজার বছর। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল, শুধু সামান্য গোড়ালির চোট ছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া সবচেয়ে বিরল নিদর্শনগুলোর একটি। কারণ প্লাইস্টোসিন যুগের (প্রায় ২৬ লাখ থেকে ১১,৭০০ বছর আগের সময়কাল) মানুষের কঙ্কাল এখানে খুবই কম পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, গলায় যে কোয়ার্টজ অস্ত্রের টুকরো পাওয়া গেছে তা স্থানীয় নয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আক্রমণটি বাইরের কোনো গোষ্ঠীর দ্বারা ঘটতে পারে। অর্থাৎ এটি হয়তো ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের প্রাচীনতম প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আঘাতের ধরন দেখে বোঝা যায় এটি ছোট কিন্তু দ্রুতগামী কোনো অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছিল। বড় অস্ত্র হলে মৃত্যু সঙ্গে সঙ্গে ঘটত। তবে কীভাবে আঘাত হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
গবেষক দলের প্রধান ক্রিস স্টিম্পসন জানান, মানুষটি আঘাত পাওয়ার পরও কয়েক মাস বেঁচে ছিলেন এবং পরে তাকে যথাযথভাবে সমাধিস্থ করা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায়, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেউ না কেউ তার যত্ন নিয়েছিল। এই আবিষ্কার শুধু প্রাচীন জীবাশ্ম গবেষণায় নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাগৈতিহাসিক সমাজ ও মানুষের জীবনযাত্রা বোঝার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল