বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলায় হামজা, সামিত ও ফাহমিদুলকে ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে। অক্টোবরে ঢাকায় এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরুর আগে তাদের নিয়েই হবে যত আলোচনা। হামজা দেওয়ান চৌধুরী প্রবাসী হলেও বাংলাদেশের প্রধান হিরো। এ ক্রেজ কিছুদিন তো থাকবেই। যাক, দেশের ফুটবলপ্রেমীদের এখন আবার নতুন আগ্রহ আরেক প্রবাসীকে নিয়ে। ১৯ বছর বয়সি। এ বয়সেই ইংলিশ ফুটবলে নজর কেড়েছেন। সান্ডারল্যান্ডে বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলেই তাকে উড়িয়ে আনা হয়েছে। খেলবেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে। তার আগেই বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে মিচেলের। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল কারামাহোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
মিচেল মাঠে নামার আগেই কিংস গোল পেয়ে যায়। এমানুয়েল সানডের একমাত্র গোলেই বসুন্ধরা কিংস গ্রুপপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। যতক্ষণ মিচেল মাঠে ছিলেন দেখিয়েছেন তার নৈপুণ্য। মিচেলকে বাংলাদেশে খেলানোর ব্যাপারে মূল উদ্যোগটা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসানের। হামজা, সামিত, ফাহমিদুলের পাশে মিচেল থাকলে জাতীয় দলের আরও শক্তি বাড়বে। তবে তিনি জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা রাখেন কি না তার প্রমাণ পাওয়া যাবে ভিয়েতনামে। অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপে বাছাইপর্বে বাংলাদেশ খেলবে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও ইয়েমেনের বিপক্ষে। দলে আরও দুই প্রবাসী জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল ইসলামও রয়েছেন। যদিও ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
তিন প্রবাসী হলেও আগ্রহটা মিচেলকে ঘিরেই। কেমন খেলবেন, গোল পাবেন না গোল করাবেন, আলোচনাটা হচ্ছে শুধু তাকে নিয়েই। বাংলাদেশে আসার আগেই কিউবা মিচেলের নাম ফুটবলপ্রেমীদের চেনা ও জানা হয়ে গেছে। ধারণা ছিল মিচেল শুধু বাংলাদেশের হয়েই খেলবেন। বসুন্ধরা কিংস যখন ঘোষণা দিল আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমেও মিচেল তাদের দলের হয়ে খেলবেন তখন থেকেই আগ্রহটা আরও বেড়ে যায়। কিংসের হয়ে এক ম্যাচই খেলেছেন, তার পরও যে আলোচনা তা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো। যতই ইংলিশ ফুটবলে বয়সভিত্তিক দলে খেলুক না কেন। বয়স তো কম। মাত্র ১৯ বছর বয়সি যুবক, ইংল্যান্ডে থেকেই তো অভ্যস্ত। এত অল্প বয়সি ছেলে অচেনা পরিবেশের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন- এমন প্রশ্ন তোলাটা স্বাভাবিকই। তবে মাত্র কয়েক দিন ঢাকায় থেকে মিচেলের আচরণ দেখে সবাই মুগ্ধ। ঢাকায় এসে বসুন্ধরা কিংসে প্রাকটিস করেছেন অল্প কয়েক দিন। প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন। মিচেল সবার সঙ্গে যেভাবে মিশে গেছেন তা সত্যিই অবাক করার মতো। তপু বর্মণ বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, আমরা চিন্তায় ছিলাম মিচেল মানিয়ে নিতে পারবেন কি না। ওর আচরণ দেখে সত্যিই অবাক। যেভাবে আমাদের সঙ্গে মিশে গেছে, তাতে মনে হচ্ছে, মিচেল যেন আমাদের অনেক দিনের চেনা ও জানা।’
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্যাম্পে গিয়েও মিচেল যেভাবে সেলফি তুলছেন তাতে মনে হচ্ছে মোরসলিনরা যেন তার বাল্যবন্ধু। বাইরে কেউ ওর সঙ্গে ছবি তুলবে, তাতেও আপত্তি নেই। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।
সংকোচ কিছুটা থাকলেও ভাব নেই। হেড কোচ সাইফুল বারী টিটুও মিচেলকে পেয়ে বড্ড খুশি। বললেন, ‘আমার বিশ্বাস ও পারবে’।