ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় চলতি বছর লালমি বাম্পার ফলন হয়েছে। রমজান মাসে লালমি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ খুশি চাষীরা। ফরিদপুরে উৎপাদিত লালমি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভ কেবল লালমি চাষেই সম্ভব বলে জানালেন কৃষি বিভাগ। এ বছর লালমি-বাঙ্গি বিক্রি করে বেশ লাভ হওয়ায় কৃষকেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। গত বছর অতি বৃষ্টিতে ফসলের বেশ ক্ষতি হওয়ায় এ বছর লালমি-বাঙ্গি বিক্রি করে সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন।
সারাদিন রোজা রাখার পর লালমি জুস দিয়ে ইফতারের তুলনা হয় না। লালমি’র জুস ঠান্ডা হওয়ায় রোজাদারদের লালমির প্রতি আগ্রহ বেশী থাকে। আর সে কারণে রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরেও সদরপুর উপজেলায় ব্যাপক হারে লালমি চাষ করেছেন চাষীরা। রোজার শুরু থেকেইে লালমি বাঙ্গির বাজারজাত শুরু হয়েছে। চাষীরা এখন মাঠ থেকে লালমি বাঙ্গি তোলা এবং বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাষীদের সাথে মাঠে কাজ করছে কৃষাণীরাও।
সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ, ডেউখালি, শৈলডুবি, কাটাখালি, মোটকচর, আকটেরচর, চরচাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় লালমি চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিবছর রমজানকে টার্গেট করে লালমি চাষ করে চাষীরা। লালমি-বাঙ্গি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় দিনের পর দিন কৃষকেরা ঝুঁকছেন লালমি চাষে। বর্তমানে সদরপুর উপজেলার ১০টি গ্রামে চাষ হচ্ছে লালমি। এখানকার উৎপাদিত লালমি বাঙ্গি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
সদরপুর এলাকার চাষিরা জানান, ওই এলাকায় অধিক পরিমাণে লালমি-বাঙ্গি উৎপাদন করায় এ ফল বিক্রি করতেও কৃষকদের কোন ঝক্কি পোহাতে হয়না।
কৃষকদের দাবি, জমি থেকে তুলেই বিক্রি করায়, ফরমালিন বা কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে লালমি-বাঙ্গির। ক্রেতারাও বলছেন, লালমি-বাঙ্গি ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় ইফতারের তালিকায় লালমি-বাঙ্গিকে অন্তর্ভুক্ত করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে লালমির আবাদ হয়েছে। চারা রোপনের ৪৫দিন পর থেকে লালমি তোলা যায়। এক বিঘা জমিতে খরচ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর একটি লালমি বিক্রয় হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরহাদুল মিরাজ বলেন, লালমি স্বল্প সময়ে একটি লাভ জনক ফসল। বীজ রোপনের ৪৫ থেকে ৬০ দিনে বাজারজাত করা যায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লালমি যায়। এক বিঘা জমিতে খরচ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আর বিক্রয় হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। লালমি চাষ করে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ বছর প্রায় ৩ কোটি টাকার লালমি-বাঙ্গি উৎপাদিত হবে।
বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান