শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০২০ ১৫:৪৩

লকডাউনেও খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭২ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম

দিনাজপুর প্রতিনিধি

লকডাউনেও খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭২ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত তিন মাসে দেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও শনিবার পর্যন্ত ২৭২ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

“আগের মতন ঝামেলা নাই এখন হাসপাতালে। ভাল সেবা পাওয়া যায়, বিপদের সময় এমন ভাল সেবা পেয়ে অত্যন্ত খুশি”-এমনটাই বললেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা ছাতিয়ানগড় গ্রামের ভৈরবী রায়। 

সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে অনেক সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যখন ঠিকমত সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তখনও অনাগত শিশুদের সুন্দরভাবে পৃথিবীতে স্বাগত জানাতে এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে করোনা ঝুঁকিতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ডাক্তার, নার্স-মিডওয়াইফ, ওয়ার্ড বয় ও কর্মচারী সবাই একই পরিবারের সদস্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই জরুরী বিভাগ, ফ্লু কর্নার, সীমিত পরিসরে আউটডোর ও ইনডোরে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বিগত বছরে স্বাস্থ্য সেবায় বিভাগে তৃতীয় ও জেলার প্রথম হয়েছিল খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত তিন মাসে দেশে চলমান লকডাউনের মধ্যেও শনিবার পর্যন্ত ২৭২ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। গত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে প্রসব পূর্ববর্তী এএনসি সেবা নিয়েছেন ২০৯২ জন ও প্রসব পরবর্তী পিএনসি সেবা নিয়েছেন ৫৬৪ জন এবং প্রতিদিন গড়ে আড়াই শতাধিক রোগী ফ্লু কর্নার, আউটডোর ও জরুরী বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব তার সবটুকু দিয়েই মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। করোনা পরিস্থিতিতে নিজের জীবনে ঝুঁকি থাকলেও দেশের এ দুঃসময়েও সেবার মাধ্যমে প্রসূতি মায়ের কোলে একটি সুস্থ ও ফুটফুটে শিশুকে তুলে দিতে পেরে নিজেকে একজন গর্বিত স্বাস্থ্যকর্মী মনে করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু রেজা মো. মাহমুদুল হক বলেন, সকলের সহযোগিতায় হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ছে। নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় জন্ম নেয়া শিশুর জন্য জামা, মশারি ও ওই শিশুর মাকে উপহার দেয়া হয়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর