শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৩
প্রিন্ট করুন printer

ধর্ষণে জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি দিল আদালত, ধর্ষকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

ধর্ষণে জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি দিল আদালত, ধর্ষকের যাবজ্জীবন

রংপুরের পীরগাছায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত। সেই সাথে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। 

সোমবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় দেন। এছাড়াও ওই সন্তানের ভরণপোষণ প্রদানসহ ধর্ষকের ওয়ারিশ হিসেবে ঘোষণা দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, পীরগাছার অন্নদানগর ইউনিয়নের অন্নদানগর গ্রামের দিনমজুর হানিফ উদ্দিন স্ত্রী সন্তানদের রেখে অনত্র চলে যাওয়ায় ওই ইউনিয়নের সাতদরগাহ হরিচরণ গ্রামে মায়ের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন হানিফ উদ্দিনের স্ত্রী। হানিফের বড় মেয়েকে (ঘটনাকালিন বয়স ১৪ বছর)  প্রায়ই উত্যক্ত করতেন প্রতিবেশী মৃত মজিবর রহমানের ছেলে পান ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (তৎকালীন ২২ বছর বয়স)।

২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন শফিকুল। পরে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। ২০০৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওই বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন শফিকুল ও তার স্বজনরা। পরবর্তীতে ধর্ষণের ঘটনা এবং সন্তানের স্বীকৃতি অস্বীকার করলে প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পীরগাছা থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে তাদেরকে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়া হয়। পরে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শফিকুলসহ তার বাবা মজিবর, চাচা মমতাজ উদ্দিন ও ফুফ নজিরনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন অবস্থায় মজিবর মারা যান এবং ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী।
এদিকে, শফিকুলও অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। পরবতীতে আদালতের নির্দেশে ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুর এবং ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষা ও ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ধর্ষকের ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির অংশীদারিত্বের রায় দিয়েছেন বিচারক। যদি ধর্ষকের কোনো সম্পত্তি না থাকে তাহলে ওই শিশুর ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এ্যাড জহুরুল ইসলাম।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর