শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৪
প্রিন্ট করুন printer

মোবাইল ফোনের জন্য গালি দেয়ায় বাবার হাতে প্রাণ যায় শিশু নুপুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

মোবাইল ফোনের জন্য গালি দেয়ায়
বাবার হাতে প্রাণ যায় শিশু নুপুরের

নুর মোহাম্মদ সৈয়দপুরে রসুলপুর রেল কোয়ার্টারে স্ত্রী সন্তানসহ প্রায় ৬ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তিনি রেলের একজন কর্মচারি। গত বছরের ৩ এপ্রিল ঘটনার দিন শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে তার মেয়ে নুরানি আক্তার নুপুর ও তার ছোট ছেলে মো. আবু সোহান (৭) সহ খাওয়া শেষে তাদের  কোয়ার্টারের উত্তর দিকের ঘরে গল্প করছিল। এমন সময় তার ছোট ছেলে আবু সোহান (৭) ও মেয়ে নুরানি আক্তার নুপুরের (৮) মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। নুর মোহাম্মদ তার ছেলে-মেয়েকে বকাঝকা করেন। এরপর নুর মোহাম্মদ মেয়েকে নিয়ে পাশের ঘরে টিভি দেখতে আসেন। নুপুর  টিভি দেখছিল এবং নুর মোহাম্ম্দ তার ব্যবহৃত এনড্রেয়েড মোবাইল ফোনে নাটক দেখতেছিল। কিছুক্ষণ পর নুপুর তার বাবা নুর মোহাম্মদের কাছে মোবাইল ফোনটি চায়। নুর মোহাম্মদ মেয়েকে ফোন না দিয়ে ধমক দেন। এরপরও  নুপুর মোবাইল ফোনের জন্য তার বাবার নিকট জেদাজেদি করলে এবং বাবাকে 'কুত্তার বাচ্চা' বলে গালি দিলে  পিতা নুর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে নুপুরের গলা চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর নুপুর নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং মারা যায়। মেয়ের মৃত্যু হলে ঘাতক পিতা ঘরের মধ্যে কাপড় শুকানোর রশিতে নুপুরের লেহেঙ্গার ওড়না বেঁধে আত্মহত্যার ঘটনা সাজায় এবং আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। এভাবেই পিবিআইয়ের নিকট কন্যা হত্যার বর্ণনা দেন ঘাতক পিতা নুর মোহাম্মদ।

দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় রংপুর পিবিআই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।  শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই পুলিশ সুপার জাকির হোসেন এই তথ্য জানান।

প্রথমে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা পুলিশ এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে। শিশুটির পোর্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যায় যে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করে। দীর্ঘ ১০ মাস তদন্ত করে  রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করেন। নীলফামারী আমলী আদালত সৈয়দপুর-২ মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই রংপুর জেলার উপর অর্পণকরেন।

পিবিআই রংপুর জেলা উক্ত মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এস আই নুরে আলম সিদ্দিকের উপর তদন্তভার অর্পণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে মামলা সংশ্লিষ্ট আলামত ১টি নীল রংয়ের লেহেঙ্গার ওড়না জব্দ করে। পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনসহ পিবিআই এর একটি  টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ও ওড়নায় দেয়া গিঁট দেখে পিবিআই পুলিশের  সন্দেহ হয়। এরপর শিশুটির পিতা নুর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার পিবিআই অফিস রংপুরে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে  পিবিআইয়ের কাছে নুর মোহাম্মদ কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। শুক্রবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর  তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। নুর মোহাম্মদ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জগদা মুক্তিাযোদ্ধা পাড়ার খয়রাত আলীর পুত্র। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর