শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মে, ২০২১ ১৪:৫২
প্রিন্ট করুন printer

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে যুবলীগ নেতাসহ ৭ জন কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে যুবলীগ নেতাসহ ৭ জন কারাগারে
প্রতীকী ছবি
Google News

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি হত্যা মামলায় যুগলীগ নেতা আবু কাউসার ভূঁইয়াসহ সাতজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত। গতকাল রবিবার (৩০ মে) দুপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবু কাউসার ভূঁইয়া (৩৯) বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা অন্য আসামীরা হলেন- আবু কাউসারের আপন চাচাতো ভাই আসাদ ভূঁইয়া (২৪), জয়  ভূঁইয়া (২৫), পিয়াস ভূঁইয়া (২০), নাইম  ভূঁইয়া (২৪), শরীফ ভূঁইয়া (২০) ও পিন্টু মিয়া (৪৫)। তারা সবাই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভূক্ত আসামী। ওই হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৪০দিনের জামিন পান তারা। গতকাল রবিবার আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ আদালতের পরিদর্শক দিদারুল আলম বলেন, উপজেলার বিজয়নগরের একটি হত্যা মামলায় কাউসারসহ সাতজন জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, মাদকবিরোধী সভা করায় গত বছরের ২৪ মে সকালে উপজেলার নজরপুর গ্রামে যুবলীগ নেতা কাউসার ও তার লোকজন আবু নাছের (৩৫) এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হাত-পা ভেঙ্গে দেন। গত বছরের ২৯ মে রাত ১১টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি রেনেসা হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত আবু নাছের উপজেলার সেজামূড়া গ্রামের আবু শামার ছেলে এবং আউলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী। যুবলীগ নেতা কাউসারও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন ও এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ মে বিকেলে সেজামূড়া গ্রামে ৬০ থেকে ৬৫ জন স্থানীয় হুমায়ূন কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদক বিরোধী সভা করেন। পরদিন সকালে নাছিরের দাদি মারা যান। কাফনের কাপড় কিনে ফেরার পথে নজরপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে কাউসারসহ ১২ থেকে ১৪ জন রড-শাবল ও কাঠের লাঠি দিয়ে নাছেরকে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নাছেরকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 

গত বছরের ২৪ মে রাতেই নিহতের বাবা আবু শামা কাউসারসহ নয়জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু গত বছরের ২৯ মে রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবু নাছির। পরে নিহতের বাবা বাদী আবু শামা বাদী হয়ে কাউসারকে প্রধানসহ ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের গত ২মার্চ কাউসার, তার চাচাতো ভাই আসাদ, পিয়াস, শরীফ নাইম, জয় ও স্থানীয় পিন্টুসহ ১১ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়। 


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ

এই বিভাগের আরও খবর