৮ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৩২

মুন্সীগঞ্জে নৌকার সাবেক মাঝিদের অনেকে এখন নৌকা ডুবাতে মরিয়া

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে নৌকার সাবেক মাঝিদের অনেকে এখন নৌকা ডুবাতে মরিয়া

মুন্সীগঞ্জে বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে জয়ী হওয়া প্রার্থীরা এখন নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। এমনই দুই চেয়ারম্যান সদরের চরকেওয়ার ইউনিয়নের আখতারুজ্জামান জীবন ও টঙ্গিবাড়ির কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নে নূর হোসেন বেপারী এবার তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

ইতোমধ্যে নৌকা বিরোধিতা করে এই দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র নিজ নিজ উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। এতে করে অভিযোগ উঠেছে এসব চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলকে নয় নিজের স্বার্থে দল ও দলের প্রতীককে ব্যবহার করেছেন। ফলে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। 

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে জানা গেছে, বিগত ইউপি নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান জীবন ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন বেপারী দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবারের ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। 

তাদের সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীকে নৌকা বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় জেলা জুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ হবে এখানে।

এ ব্যাপারে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে যারা এখন নৌকার বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এছাড়াও যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নৌকার বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আওয়ামী লীগ কর্মী শূন্য হয়ে পড়বে।

নিজের মনোনয়ন পত্র তুলে নিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করবে বলে জানালেন মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন গাজী। তবে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানালেন চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। 

কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারাই বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন বা তাদের পাশে দলের নেতাকর্মী সাপোর্ট দিবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন জানিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও  চরকেওয়ার ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান জীবন বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি তাই তৃণমূলের দাবীতে এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছি। 
 
এ ব্যাপারে কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ইতোমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সহযোগী দলীয় পদবহনকারী নেতাকর্মীদের নাম তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বরের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জেলার শ্রীনগর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে। সেখানে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিটা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও মারামারি ঘটনা ঘটেছে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর