প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্বোধন করা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ২০ শয্যা বিশিষ্ট আলিয়ারহাট হাসপাতাল দীর্ঘ ১৯ বছর পর পুনরায় চালু হচ্ছে। ২০০৫ সালে শিবগঞ্জ বন্দর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে ২০ শয্যার আলিয়ারহাট হাসপাতাল নির্মিত হয়। যার ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। হাসপাতালটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছিল। নির্মাণের পর বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আর কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি। যার ফলে ব্যাহত হয়েছিল এলাকার কয়েক লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা।
এক সময় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আশার আলো জাগানো এই হাসপাতালটি বছরের পর বছর বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ও বঞ্চনার শিকার হন স্থানীয়রা। অবশেষে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় চালুর উদ্যোগে নিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মাহে আলম এমপি।
শনিবার (২ মে) তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় মীর শাহে আলম জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এতে ব্যাহত হচ্ছিল এলাকার কয়েক লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে ওই এলাকার লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থসেবা থেকে বঞ্চিত হন। অবশেষে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু করা হচ্ছে ২০ শয্যার এই হাসপাতাল।
শনিবার হাসপাতালটি পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই হাসপাতালটি দ্রুত সচল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালটি চালুর মাধ্যমে শিবগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় হাসপাতালটির ভবন ও আঙিনায় ঝোপঝাড় ও জরাজীর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই সফরের পর স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত হাসপাতালটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/জেডআর