চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হয়েছে গতকাল ৩ মে, চলবে ৬ মে পর্যন্ত। জেলা প্রশাসকরা হলেন জেলা পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তাগিদ দেওয়া হবে সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে। চলতি সম্মেলনে উত্থাপনের জন্য ৬৪টি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে। দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন সহজলভ্য করা, প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে অন্তত একটি করে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা, জেলা কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। ডিসি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ভূমিব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদার করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচি চালু, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, সম্মেলনে তাদের প্রস্তাবগুলো সুবিবেচনা পাবে। উল্লেখ্য গত বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ৪০০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাত্র ৪৪ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলা প্রশাসক সম্মেলন। এ সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা দেশ পরিচালনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবহিত হবেন। সুশাসনের জন্য কোথায় কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সে সম্পর্কে তাঁরা মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে আভাস পাওয়া গেছে প্রশাসনকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হবে।