কুমিল্লা-৬ আসনের সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় হামাগুড়ি দিয়ে চলছেন এক তরুণ। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মানসিক দৃঢ়তা প্রবল।
হামাগুড়ি দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে তিনি ভোট প্রদান করেন। এরপরে চাচাতো ভাই আবু সাইদের কোলে উঠে বসলেন। দোতলা থেকে নেমে এসে বসলেন হুইল চেয়ারে। সেই হুইল চেয়ার থেকে গিয়ে উঠলেন অটো রিকশায়। এতো পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এসেছেন ভোট দিতে। তরুণের নাম আবদুল কাদের।
তিনি এসেছেন কেন্দ্র থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের মোহনপুর গ্রাম থেকে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলামের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার বড়।
আব্দুল কাদের বলেন, অনেকদিন পরে ভোট দিতে এসেছি, ভোট দিতে পেরে আমার খুশি লাগছে।
তিনি বলেন, আমি চাই দেশটি শান্তির হোক, মানুষের কষ্ট দূর হোক।
আব্দুল কাদের জানান, জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। বিয়ে করেছেন এবং তার দুইটি ছোট সন্তান রয়েছে। বাবা ও ছোট ভাইদের আয় থেকে চলে পরিবারের খরচ। তিনি চান পরিবারের হাল ধরতে। তাই কোনো কাজের প্রশিক্ষণ বা ব্যবসার পুঁজি পেলে আয় করতে পারবেন।
আব্দুল কাদেরের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ছেলের ইচ্ছে ভোট দেবে। তাই তাকে আরেকজনসহ হুইলচেয়ারে নিয়ে এসেছি। ছেলেটির কোনো আয় নেই। সহযোগিতা পেলে সে পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে পারবে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জামাল হোসেন বলেন, আমাদের কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছেন। তাই নারী ও প্রতিবন্ধী ভোটাররা সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারছেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম