১ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:১৬

যে কঠিন রোগের কারণে ক্যারিয়ার থমকে যায় শেফালির

অনলাইন ডেস্ক

যে কঠিন রোগের কারণে ক্যারিয়ার থমকে যায় শেফালির

ফাইল ছবি

ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘কাঁটা লগা’খ্যাত শেফালি জরিওয়ালা ছোট পর্দা অথবা বড় পর্দা নয়, একটি মিউজিক ভিডিও করেই রাতারাতি সাফল্য পান মাত্র ১৯ বছর বয়সে। পরে সালমান খান, অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়াঙ্কার মতো তারকার সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতে অভিনয় করেন। তারপরও বড় পর্দায় সেভাবে দেখা যায়নি শেফালিকে। কঠিন রোগে ভুগছিলেন বলে তার ক্যারিয়ার থমকে যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, সত্তরের দশকে মুক্তি পাওয়া ধর্মেন্দ্র-আশা পারেখ অভিনীত ‘সমাধি’ ছবিতে লতা মঙ্গেশকর ‘কাঁটা লগা’ গানটি গেয়েছিলেন। এই গানটি নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই রিমেক গানের ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় শেফালিকে। গানটি মুক্তি পেতেই রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শেফালি। তখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। ক্যারিয়ারের প্রথম কাজ। নিজের নামের চেয়ে ‘কাঁটা লগা’ গার্ল হিসাবেই বেশি পরিচিত হয়ে যান তিনি। পরে এক লাফে তিনি পৌঁছে যান বড় পর্দায়। ২০০৪ সালে ডেভিড ধওয়ানের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘মুঝসে শাদি কারোগি’।

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে শেফালি জানিয়েছিলেন যে, ১৫ বছর বয়স থেকে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। পড়াশোনা নিয়ে বাড়তি চাপের কারণেই নাকি মৃগীতে আক্রান্ত হয়ে‌ছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে শেফালি আরও বলেছিলেন, প্রায় এক দশক এই রোগ বয়ে নিয়ে চলা একটা চ্যালেঞ্জ। ঘন ঘন মেজাজ বদল, উদ্বেগজনিত সমস্যা আমার স্কুলজীবন এবং সামাজিক মেলামেশার উপর প্রভাব ফেলেছিল। সমস্ত আশা ফুরিয়ে গিয়েছিল। আত্মবিশ্বাসও খুব কমে গিয়েছিল।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হত শেফালিকে। অভিনেত্রীর মন্তব্য, যখন-তখন যে কোনও জায়গায় মৃগী রোগ আমার মাথায় চেপে বসত। বিশেষ করে ‘কাঁটা লগা’র পর যখন আমি মঞ্চে পারফর্ম করতাম, বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর ঘুরতে হত, তখনও এই রোগ আমাকে চেপে ধরত।

ধীরে ধীরে মৃগী রোগ থেকে মুক্তি পান শেফালি। তিনি বলেছিলেন, চিকিৎসকদের সহায়তা এবং ইতিবাচক মনোভাব আমাকে সেরে উঠতে সাহায্য করেছে। মানসিক ভাবে আমি শক্তিশালী হয়েছি, শারীরিক ভাবেও ফিট হয়েছি। এখন আর মৃগী রোগে আক্রান্ত নন তিনি। তবে এই রোগের কারণেই মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন অভিনেত্রী।

২০০৪ সালে সঙ্গীত পরিচালক হরমিতের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন অভিনেত্রী। কিন্তু তাদের সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। ২০০৯ সালে হরমিতের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় শেফালির। অভিনেত্রীর দাবি, তার উপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করতেন হরমিত। থানায় হরমিতের বিরুদ্ধে নাকি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি।

এর মধ্যে ২০০৮ সালে ‘বুগি উগি’ রিয়েলিটি শোয়ে দেখা যায় শেফালিকে। কানাঘুষো শোনা যায়, বিচ্ছেদের পর হিন্দি ধারাবাহিকের অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লের সঙ্গেও নাকি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু সেই সম্পর্কেও ইতি টানেন দুই তারকা। এর পর টেলিভিশনের খ্যাতনামী তারকা পরাগ ত্যাগীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শেফালি। ২০১২ সালে নাচের একটি রিয়েলিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে জুটি বেঁধে অংশগ্রহণ করেন দুই তারকা।

এর পর টেলিভিশনের খ্যাতনামী তারকা পরাগ ত্যাগীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শেফালি। ২০১২ সালে নাচের একটি রিয়েলিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে জুটি বেঁধে অংশগ্রহণ করেন দুই তারকা। দীর্ঘকালীন সম্পর্কে থাকার পর ২০১৪ সালে পরাগের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন শেফালি। বিয়ের এক বছরের মধ্যে আবার জুটি বেঁধে নাচের রিয়েলিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তারকা-দম্পতিকে।

২০১৬ সালে বোনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ব্যবসা শুরু করেন শেফালি। দুবাইয়ে দুই বোন মিলে একটি কোচিং সংস্থা খোলেন। ২০১৯ সালে সম্প্রচারিত ‘বিগ বস্’ রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করেন শেফালি। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছনোর আগেই শো থেকে বেরিয়ে যান অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বেবি কাম না’ নামের ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে দেখা যায় শেফালিকে। এই সিরিজে অভিনয় করেন শ্রেয়স তালপাড়ে এবং চাঙ্কি পান্ডের মতো তারকারা।

২০১৯ সালে আবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় শেফালিকে। সেখানে তুষার কাপুর, মল্লিকা শেরাওয়াত এবং কৃষ্ণ অভিষেকের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। পরে আবার ২০১৯ সালের পর পাঁচ বছর অভিনয়জগৎ থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সূত্রে খবর, চলতি বছরে ছোট পর্দায় আত্মপ্রকাশ করবেন শেফালি। ‘শয়তানি রসমে’ নামের একটি হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর