শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ২২:৪৬

ভ্যাকসিন নিয়ে বড় ধাক্কা খেল অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়ার লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল অক্সফোর্ড। যে ভ্যাকসিনের দিকে গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাকিয়ে ছিলেন সেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নতুন করে শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্থাটির সিইও। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, বিবিসি। অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিন তৈরি এবং ট্রায়ালের পদ্ধতিতে ভুল হয়েছিল। এর জেরে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা নিয়ে তারা যতটা আশাবাদী ছিলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে ততটা কার্যকরী হয়নি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলাকালীন তা অত্যন্ত কার্যকরী বলে দাবি করেছিলেন আবিষ্কর্তারা। কিন্তু জনাকয়েক স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় তাদের দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে। দেখা গেছে, ট্রায়ালে যাদের শরীরে কম ডোজের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ কার্যকর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিন। আর যারা পুরোমাত্রায় ডোজ নিয়েছেন, তাদের শরীরে অনেকটাই কম ৬০ থেকে ৬২ শতাংশ কাজ করছে ওই ভ্যাকসিন। এখানেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। কেন এই হেরফের? এই ভ্যাকসিনের নিয়ম অনুযায়ী, রোগ প্রতিরোধের জন্য দুটি ডোজই কার্যকরী। তাহলে পুরোমাত্রায় ডোজ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে এতটা কম কাজ করল কেন? প্রশ্নের মুখে পড়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সিইও পাস্কাল সরিয়েট নতুন করে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘যেহেতু আমাদের গবেষণায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তাই আমাদের ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে। আর সেজন্য সম্ভবত আমরা অতিরিক্ত একটি ট্রায়ালের পথে হাঁটব। এটা সম্ভবত আরও একটা আন্তর্জাতিক ট্রায়াল হতে চলেছে। তবে এবারের ট্রায়ালে অতটা সময় লাগবে না, আর ট্রায়াল হবে কমসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে। কারণ আমরা জেনে গেছি কীভাবে ডোজ দিলে টিকাটি কার্যকর হচ্ছে।’

ভারতে রাশিয়ার ভ্যাকসিন তৈরি হবে বছরে ১০ কোটি : ভারতে প্রতি বছর ১০ কোটি ‘স্পুটনিক-ভি’ কভিড টিকা বানাবে রাশিয়া। তাদের বানানো এই টিকা এ দেশে উৎপাদনের জন্য ভারতীয় ওষুধ সংস্থা ‘হেটেরো’র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)’-এর। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি টুইটার অ্যাকাউন্টে এ কথা জানানো হয়েছে। আরডিআইএফ-ই রুশ কভিড টিকা বানানোর গবেষণায় অর্থসাহায্য করেছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা। রুশ সংস্থার বিবৃতিতে এও জানানো হয়েছে, ভারতে তাদের উদ্ভাবিত কভিড টিকার উৎপাদনে দেরি হবে না। টিকা উৎপাদন আগামী বছরের গোড়ার দিক থেকেই শুরু হবে। ভারতে রুশ স্পুটনিক-ভি টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে ওষুধ সংস্থা রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চেই ট্রায়ালের ফলাফল জানা সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হবে হলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতে বানানো রুশ কভিড টিকার বাজারে এসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রায় একই সময়ে ভারতের বাজারে এসে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো কভিড টিকা ‘কোভ্যাকসিন’-এরও। আইসিএমআরের সহযোগিতায় ওই টিকা বানাচ্ছে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক। অক্সফোর্ডের টিকাও ওই সময়ের মধ্যে ভারতে এসে যাবে বলে জানিয়েছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট।


আপনার মন্তব্য