রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি : ডিবি

১১ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ডেড সুবিধা অপব্যবহারের ঘটনায় সরকার বছরে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বন্ডের শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার। বেলা ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, আইন অনুযায়ী বন্ডের লাইসেন্সপ্রাপ্তরা এই সুবিধার আওতায় বন্ডের পণ্য রপ্তানি কাজে ব্যবহার ছাড়া দেশের কোথাও বিক্রি করতে পারবেন না। যদি কেউ বিক্রি করেন তবে বন্ড কমিশনারের কাছে ২০ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য শুল্ক প্রদান করে অনুমতি নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চক্র চোরাইপথে খোলাবাজারে বন্ড সুবিধার কাপড় বিক্রি করে আসছিল। ডিবি পুলিশের লালবাগ বিভাগের একটি টিম বন্ডের অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে ৫০৮ রোল চোরাই পর্দার কাপড় ও ছয়টি কাভার্ড ভ্যানসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। জব্দ হওয়া কাপড়ের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এসবের ওজন প্রায় ১৮ হাজার ৭৫০ কেজি।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শাহাদাত হোসেন, সাইফুল ইসলাম জীবন, রুবেল আকন, মাসুম, মনির হোসেন, রবিন ওরফে হৃদয় সরদার, শাহিন হাওলাদার, আরিফ হোসেন, সোহাগ ফরাজী, নাজিম ও কামাল হোসেন।

অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, জব্দ কাপড়গুলো চীন থেকে চট্টগ্রামে আসে। এরপর ময়মনসিংহের ভালুকায় যায়। সেখান থেকে রাজধানীর সাতরাস্তা হয়ে এলিফ্যান্ট রোডে যায়। শুক্রবার রাতে ধারাবাহিক অভিযানে এলিফ্যান্ট রোড ও সাতরাস্তার মোড় থেকে এই ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- বন্ড সুবিধায় বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি করেন তারা। এসব কাপড় অতিরিক্ত লাভের উদ্দেশ্যে সুবিধামতো সময়ে চোরাইপথে খোলাবাজারে বিক্রি করত। চক্রটি দেশেই চোরাইপথে সেসব পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল।

তিনি বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে- এই অসদুপায় ব্যবহারে দেশে ৮০ হাজার কোটি টাকা বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও লোকসান-হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য তারা পান না। দেশীয় বাজারে ব্যবসা করা বস্ত্র খাত হুমকির মুখে পড়ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন, আমরা ইসলামপুর-কেন্দ্রিক এরকম আরেকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছি। এই চক্রের পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, বস্ত্র খাতকে হুমকিতে ফেলছে তাদেরও খুঁজে বের করা হবে। আর গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে।