শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৫

ফুসফুসের প্রদাহ

ফুসফুসের প্রদাহ

শ্বাসকার্যের প্রধান অঙ্গ হচ্ছে বক্ষপিঞ্জরের ভিতরে দুদিকে অবস্থিত দুটি ফুসফুস। ফুসফুসের প্রধান কাজ হচ্ছে দূষিত রক্তকে পরিশোধিত করে বিশুদ্ধ করা, আর এটা সম্পন্ন হয় প্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করা বাতাসের অক্সিজেন ও ফুসফুসে আগত দেহে উৎপন্ন হওয়া কার্বন-ডাইঅক্সাইডের বিপরীতমুখী সঞ্চালনের মাধ্যমে। এত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসের গঠন কিন্তু খুবই সাদাসিধা, ভিতরে স্পঞ্জের মতো নরম লাং প্যারেনকাইমা আর বাইরে পর্দার মতো আবরণ। ফুসফুসের বহিরাবরণ আবার দুই স্তরবিশিষ্ট, ভিতরের স্তর যা ফুসফুসের গা-ঘেঁষে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় ভিসেরাল প্লুরা, আর যে স্তরটি বাইরের দিকে বক্ষপিঞ্জরের ভিতরের গা-ঘেঁষে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় প্যারাইটাল পুরা। প্লুরাল দুই স্তরের মধ্যে থাকে একটি সুপ্ত জায়গা, তাকে প্লুরাল ক্যাভিটি বলে। এই প্লুরাল ক্যাভিটির মধ্যে থাকে সামান্য পরিমাণে পিচ্ছিল তরল পদার্থ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় প্লুরাল দুই স্তরের মধ্যে ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিকতা বজায় থাকে। পক্ষান্তরে যে কোনো কারণে প্লুরাল ক্যাভিটিতে প্রদাহের সৃষ্টি হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় প্লুরাল দুই স্তরের মধ্যে ঘর্ষণ হয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বুকে এক ধরনের ব্যথা অনুভব হয়; একেই বলে প্লুরেসি বা প্লুরাল প্রদাহ।

প্লুরেসির কারণসমুহ : ভাইরাস দিয়ে সংক্রমণই হচ্ছে প্লুরেসির প্রধানতম কারণ। এ ছাড়া অন্য যেসব কারণে প্লুরেসি হতে পারে তা নিম্নরূপ : ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন- নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি। নিউমোথোরাক্স ক্যাভিটিতে যে কোনো কারণে বাতাস জমে গেলে। অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, যেমন- সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথোমেটোসাস, ড্রাগ ইনডিউসড লুপাস, রিউমাটোয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি। ফুসফুসের ক্যান্সার, লিম্ফোমা ইত্যাদি। পালমোনারি এম্বোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটবাঁধা। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ডিজঅর্ডার, যেমন- ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজ, প্যানক্রিয়াটাইটিস, পেরিটোনাইটিস, মধ্যচ্ছেদার নিচে জমা হওয়া পুঁজ। এ ছাড়া ছত্রাক অথবা বিভিন্ন পরজীবীজনিত সংক্রমণ ইত্যাদি। তাই এ বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. একেএম মোস্তফা হোসেন

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, মেডিনোভা মালিবাগ, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য